যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি আগামী শুক্রবার
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 24
দীর্ঘদিনের তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যুদ্ধ বন্ধের একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী চুক্তিতে উপনীত হয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তি ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন যে, আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডের মাটিতে দুই দেশের মধ্যে এই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
আজ সোমবার ভোরে নিজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যকার এই চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) দেওয়া একটি পোস্টে ইরানের সাথে এই শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে জানান, এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক সাধারণ জাহাজ ও কার্গো চলাচলের জন্য পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে এতদিন ধরে রাখা মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর সামরিক অবরোধও পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বা তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আবার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা না হলেও, দেশটির স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই চুক্তির খবর প্রচার করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিশেষ প্রতিবেদনে এই সমঝোতাকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তেহরানের একটি বিশাল ও ঐতিহাসিক ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে অবিরত তুলে ধরা হচ্ছে।
যদিও এই শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত শর্তাবলী এখনো আন্তর্জাতিক মহলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়নি, তবে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে— এই চুক্তিতে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা, মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং দুই দেশের মধ্যকার পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়গুলো বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকাশিত খসড়া সমঝোতার বিবরণী অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে এতদিন ধরে আটকে রাখা ইরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল ফ্রিজড বা বাজেয়াপ্ত সম্পদ দ্রুত ছাড় করে দেবে। এর বিনিময়ে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো প্রকার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেবে। একই সাথে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত তারা নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কোনো ধরনের সম্প্রসারণ কাজ থেকে পুরোপুরি বিরত থাকবে।
উলেখ্য, লেবাননে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত চরম সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলেই সমাধান খুঁজে নিয়েছে দুই দেশ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক হুমকি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বহুলাংশে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকেরা।

































