মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 40
মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামে এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের দাবি, জাহেদ আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে জাহেদকে কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগমের অভিযোগ, অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা আগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাঁরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। অতীতে আওয়ামী লীগের দুই সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থক হওয়ায় জাহেদ ও ফরিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এ ছাড়া আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারের ওরস আয়োজন নিয়েও স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ ছিল। এসব বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিহতের পরিবার।
বাবার হত্যার বিচার চেয়ে নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, তিন বোনের সামনে তাঁর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমাও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।






























