ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তারেক রহমানের চীন সফর

ভারতের হইচই প্রয়োজন নেই: গ্লোবাল টাইমস

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 36

বাংলাদেশ ও চীন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ প্রকাশকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস। পত্রিকার একটি বিশেষ সম্পাদকীয় কলামে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের হইচই করার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং এই সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের অবস্থানের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ারও কথা নয়।

সম্পাদকীয় কলামে উল্লেখ করা হয়, বুধবার থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম চীন সফর হতে যাচ্ছে। সফরকালে তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নতুন চ্যাম্পিয়নদের’ ১৭তম বার্ষিক সভাতেও (গ্রীষ্মকালীন দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। নতুন সরকারের এই প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচি মূলত বেইজিং ও ঢাকার পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিশেষ গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করে।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে কলামটিতে বলা হয়, এই সফরে চীন ও বাংলাদেশ একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যা দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিশ্বমন্দার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কাটাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সহজীকরণই হবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গ্লোবাল টাইমস জোর দিয়ে বলেছে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি চীন এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান গভীরতর সহযোগিতার একটি স্বাভাবিক অংশ মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, চলতি মাসেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং এবং গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চীন সফর করেছেন। এ ছাড়া তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি, ব্রুনাইয়ের যুবরাজ এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতিও সম্প্রতি চীন সফর করে ডিজিটাল অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে নানা চুক্তি করেছেন। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর যে প্রবল ইচ্ছা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই বৃহত্তর ধারারই একটি অংশ।

সম্পাদকীয়টিতে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, তারা এই সফর নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে দাবি করছে যে প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী ভারতকে উপেক্ষা করে চীনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন পানি ব্যবস্থাপনা সহযোগিতাকে নয়াদিল্লির জন্য সংবেদনশীল বলে তারা মন্তব্য করেছে। গ্লোবাল টাইমসের মতে, এসব প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত কিছু মানুষের ‘বড় ভাই’ মানসিকতা কাজ করছে, যারা প্রতিবেশী দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে নিজেদের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

প্রকৃতপক্ষে, চীন বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের সাথেও বাস্তব সহযোগিতা গড়ে তুলতে ইচ্ছুক, যা প্রায়শই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত। চীন ও ভারতের ভালো প্রতিবেশী হওয়া উচিত এবং ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে চীন সবসময় স্বাগত জানায়।

তিস্তা নদী প্রকল্পের উদাহরণ টেনে কলামে বলা হয়, চীন আন্তঃসীমান্ত নদী জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ নিয়ে ভারতের সাথেও দীর্ঘদিন কাজ করছে, যা এই ক্ষেত্রে একটি ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। চীন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বেইজিং বিশ্বাস করে যে তাদের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২৬-৩০) সুফল প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ক্রমশ প্রসারিত হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় যৌথ সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তারেক রহমানের চীন সফর

ভারতের হইচই প্রয়োজন নেই: গ্লোবাল টাইমস

সর্বশেষ আপডেট ০২:২১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ প্রকাশকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস। পত্রিকার একটি বিশেষ সম্পাদকীয় কলামে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের হইচই করার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং এই সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের অবস্থানের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ারও কথা নয়।

সম্পাদকীয় কলামে উল্লেখ করা হয়, বুধবার থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম চীন সফর হতে যাচ্ছে। সফরকালে তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নতুন চ্যাম্পিয়নদের’ ১৭তম বার্ষিক সভাতেও (গ্রীষ্মকালীন দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। নতুন সরকারের এই প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচি মূলত বেইজিং ও ঢাকার পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিশেষ গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করে।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে কলামটিতে বলা হয়, এই সফরে চীন ও বাংলাদেশ একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যা দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিশ্বমন্দার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কাটাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সহজীকরণই হবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গ্লোবাল টাইমস জোর দিয়ে বলেছে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি চীন এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান গভীরতর সহযোগিতার একটি স্বাভাবিক অংশ মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, চলতি মাসেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং এবং গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চীন সফর করেছেন। এ ছাড়া তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি, ব্রুনাইয়ের যুবরাজ এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতিও সম্প্রতি চীন সফর করে ডিজিটাল অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে নানা চুক্তি করেছেন। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর যে প্রবল ইচ্ছা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই বৃহত্তর ধারারই একটি অংশ।

সম্পাদকীয়টিতে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, তারা এই সফর নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে দাবি করছে যে প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী ভারতকে উপেক্ষা করে চীনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন পানি ব্যবস্থাপনা সহযোগিতাকে নয়াদিল্লির জন্য সংবেদনশীল বলে তারা মন্তব্য করেছে। গ্লোবাল টাইমসের মতে, এসব প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত কিছু মানুষের ‘বড় ভাই’ মানসিকতা কাজ করছে, যারা প্রতিবেশী দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে নিজেদের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

প্রকৃতপক্ষে, চীন বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের সাথেও বাস্তব সহযোগিতা গড়ে তুলতে ইচ্ছুক, যা প্রায়শই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত। চীন ও ভারতের ভালো প্রতিবেশী হওয়া উচিত এবং ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে চীন সবসময় স্বাগত জানায়।

তিস্তা নদী প্রকল্পের উদাহরণ টেনে কলামে বলা হয়, চীন আন্তঃসীমান্ত নদী জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ নিয়ে ভারতের সাথেও দীর্ঘদিন কাজ করছে, যা এই ক্ষেত্রে একটি ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। চীন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বেইজিং বিশ্বাস করে যে তাদের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২৬-৩০) সুফল প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ক্রমশ প্রসারিত হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় যৌথ সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।