বিয়ের চার মাসের মাথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 165
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুকের দাবিতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম এলাকা থেকে হালিমা খাতুন (২২) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী সুনু মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আছাব মিয়ার মেয়ে হালিমা খাতুনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সুনু মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই সুনু মিয়া কর্মস্থলে মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে হালিমার পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
শনিবার বিকেলে দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন, শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছেন হালিমা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা সিরাজ মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে হালিমার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বিয়ের সময় দাবি অনুযায়ী জিনিসপত্র না দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দিন জানান, মেয়ের পরিবারের অভিযোগের পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পুলিশকে মরদেহ উদ্ধার করতে সহযোগিতা করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
































