অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধর
ববিতে নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের সংঘর্ষ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 73
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে তা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে দুই বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও মারধর করা হয়।
জানা গেছে, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার পর তাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে শনিবার রাতে তারা ভিসি গেটের বিপরীতে মুসাকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
প্রথম দফার সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় এবং প্রক্টর কার্যালয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় এক পক্ষ ভিসি গেটের ভেতরে এবং অন্য পক্ষ বাইরে অবস্থান নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের থামাতে বেগ পেতে হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে সংঘর্ষ থামে।
এদিকে সংঘর্ষে আহত অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভিসি গেটের সামনে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তাদের নামিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী এ হামলায় জড়িত ছিলেন।
এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও কয়েকজন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিচার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন চালকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চালক মো. শহিদ বলেন, ‘আমাদের চালক তারেককে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ও পরিবহন পুলের ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছি।’
অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, তাদের বিভাগের এক জুনিয়র নারী শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের মতো করে উত্ত্যক্ত এবং প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের কাছে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর হাত চালানোর পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই উত্তেজিত ছিলেন। মারধরে অংশ নেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
ঘটনাস্থলে থাকা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আশিক বলেন, তারা সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে নিজেরাই মারধরের শিকার হয়েছেন। দুই পক্ষই ইটপাটকেল ছুড়েছে এবং তার শরীরেও ইটের টুকরো লেগেছে। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমরা সারারাত ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীরা কেন বারবার এ ধরনের সংঘাতে জড়াচ্ছে, তা নিয়ে প্রক্টরিয়াল টিম বসবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।’































