স্বচ্ছতা চান বিশ্লেষকরা
পোশাকশ্রমিকদের মজুরিতে তলানিতে বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 56
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। অথচ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এ দেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে কমের দিকে। নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের আলোচনা শুরু হওয়ায় শ্রমিকরা মাসে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি তুলেছেন। এ প্রেক্ষাপটে মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। গত বছর দেশটি থেকে ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
কিন্তু রপ্তানিতে সাফল্য থাকলেও শ্রমিকদের মজুরিতে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ডলারের হিসাবে প্রায় ১০১ ডলার। প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ন্যূনতম মজুরি ৯০ ডলার, ভিয়েতনামে ১৭৫ ডলার, ভারতে ১৯২ ডলার এবং চীনে ৩৩৭ ডলার।
অতীতের মজুরি নির্ধারণের চিত্রেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০১৮ সালে শ্রমিকরা ন্যূনতম ১৭ হাজার টাকা মজুরি দাবি করলেও নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে ২৫ হাজার টাকা দাবির বিপরীতে মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
সর্বশেষ মজুরি কাঠামো কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর। প্রায় তিন বছর পর এবার শ্রমিকরা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি করছেন। বর্তমান মজুরির তুলনায় তাদের এ দাবি প্রায় ১৪০ শতাংশ বেশি। শ্রমিকদের যুক্তি, গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী আয় বাড়েনি।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শ্রমিকরা কখনোই তাদের প্রত্যাশার কাছাকাছি মজুরি পাননি। গত তিন বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে গত দুই বছরে পোশাকশিল্প যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও খোলামেলা হওয়া জরুরি। বর্তমানে দরকষাকষির সুযোগ সীমিত। পাশাপাশি প্রশাসনিক চাপের কারণে শ্রমিক নেতারাও অনেক সময় নিজেদের দাবি আদায়ে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে পরিমাণনির্ভর রপ্তানি বেশি হওয়ায় মুনাফার হার তুলনামূলক কম থাকে। তবে যে মুনাফা অর্জিত হয়, সেখান থেকেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুসরণে গুরুত্ব দিলে শ্রমিকদের জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
শ্রমিক অসন্তোষ কমাতে তিনি জানুয়ারি মাসের বেতন বৃদ্ধির সুবিধা থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণে আলোচনা দীর্ঘায়িত হলেও নতুন কাঠামো যেন গত ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর করা হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, দেশের পোশাক বাণিজ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক বার্তা যায়। গঠিত মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, মালিকপক্ষ তা মেনে নেবে। তবে মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।






























