মালদ্বীপে ৯৮ শতাংশ বিদেশি কর্মীর বায়োমেট্রিক সম্পন্ন
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 10
মালদ্বীপে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৯৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। দেশটিতে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বেতন-ভাতা ও রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা বাড়ানোসহ প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম ও মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র, শ্রম ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মপরিবেশ, আইনি সুরক্ষা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে অগ্রগতি
বৈঠকে মন্ত্রী আলী ইহুসান জানান, মালদ্বীপে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৯৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এ অগ্রগতির জন্য মালদ্বীপ সরকারকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিয়মিতকরণ, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ আরও সহজ হবে।
অনথিভুক্ত কর্মীদের নিয়মিতকরণ
বৈঠকে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণ ও বৈধ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, আনুষ্ঠানিক নিয়মিতকরণ কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত যেসব বিদেশি কর্মীর অভিবাসন বা চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র অসম্পূর্ণ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিতকরণের সুযোগ থাকতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ, লেবার রিলেশনস অথরিটি অথবা সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার। এ ছাড়া কর্মীদের কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ হওয়া কিংবা নিয়োগচুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা না করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বেতন ও রেমিট্যান্স সুবিধা
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, অধিকাংশ বাংলাদেশি কর্মী পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মালদ্বীপে কাজ করেন। তাই তাঁদের উপার্জিত অর্থ নিরাপদে ও কম খরচে দেশে পাঠানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ সময় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিয়োগচুক্তিতে উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়।
যৌথ সমন্বয় ও সচেতনতা কার্যক্রম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের একটি সমন্বয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এ ছাড়া মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে বসবাসরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য বিনিময় এবং তাঁদের সচেতন করতে যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচিতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া, কর্মীদের অধিকার ও দায়িত্ব, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে তথ্য দেওয়া হবে।
বৈঠকে হাইকমিশনার প্রস্তাবিত সমন্বয় উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
সাক্ষাৎটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






























