স্বর্ণ ডাকাতির ভাগ নিয়ে খুন যুবদল নেতা শাকের, গ্রেপ্তার ১১
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 21
মাগুরায় প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সভাপতি গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হন পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে আসে, এর সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সংঘটিত একটি স্বর্ণ ডাকাতির যোগসূত্র রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদরের রামনগর বাজার এলাকায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন ও যুবদল নেতা শাকের হোসেন। তাঁদের সঙ্গে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল যুক্ত ছিল। এ সময় প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ডাকাতির পর লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মারুফ ও শাকেরের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে ভাড়াটে খুনি দিয়ে শাকেরকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে স্বর্ণ ডাকাতির শিকার ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানের অভিযোগ, গত ১৫ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ শুরুতে বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পরে তিনি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে অভিযোগ জানান।
অন্যদিকে, নিহত শাকের হোসেনের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি গোলাম জাহিদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম লুবনা, ঝিনাইদহের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার ও বশির আলী।
অন্যদিকে, স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন হলেন গোলাম জাহিদ, মারুফ হোসেন, মো. জুয়েল হোসেন, চৌকির আহমেদ, ফরিদ মন্ডল, মিল্টন মোল্লা ও মারুফা আক্তার।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ৬১ ভরি ৬ আনা উদ্ধার হয়েছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ভাড়াটে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





























