ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রুমিন ফারহানা

পুলিশের সাথে টাকা ভাগাভাগি করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 27

রুমিন ফারহানা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মামলা বাণিজ্যের নামে পুলিশের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের যোগসাজশ ও আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, তৃণমূলের কিছু নেতা পুলিশের সাথে মিলে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করছেন এবং অর্থ না দিলে মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। একই সাথে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো ও বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন।

তৃণমূল রাজনীতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের অনৈতিক আঁতাত নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশের বিশিষ্ট এই নারী আইনজীবী। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের এক নতুন সিন্ডিকেটের বিবরণ উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

মূলত পুলিশের সাথে লোকাল বিএনপির টাকা ভাগাভাগি করার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সংসদ সদস্যের মুখ থেকে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি মনে করেন, ক্ষমতার হাতবদলের পরও মাঠপর্যায়ের এই অপসংস্কৃতির কোনো বদল ঘটেনি।

টকশোতে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কোনো অঞ্চলে অপরাধীদের তালিকা তৈরি বা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারা পুলিশকে প্রভাবিত করছেন। বর্তমানে পুলিশের সাথে লোকাল বিএনপির টাকা ভাগাভাগি সংক্রান্ত অনৈতিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, টাকা না দিলে মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোনে প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এছাড়া অতীতে সরকারের নানা ভুল পলিসি ও স্বাস্থ্য খাতের উদাসীনতা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াতকে সংসদের বাইরে রেখে একদলীয় শাসন চালানো হয়েছিল, আর এখন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলোকে মাঠের বাইরে রেখে সংসদ চালানো হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশের সাথে লোকাল বিএনপির টাকা ভাগাভাগি হওয়ার মতো ঘটনা বন্ধ করতে তিনি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর জোর দেন। পরিশেষে বলা যায়, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার প্রধান একই ব্যক্তি হওয়ায় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিচার বিভাগের ওপর সবসময় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি নেতিবাচক প্রবণতা কাজ করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রুমিন ফারহানা

পুলিশের সাথে টাকা ভাগাভাগি করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মামলা বাণিজ্যের নামে পুলিশের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের যোগসাজশ ও আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, তৃণমূলের কিছু নেতা পুলিশের সাথে মিলে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করছেন এবং অর্থ না দিলে মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। একই সাথে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো ও বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন।

তৃণমূল রাজনীতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের অনৈতিক আঁতাত নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশের বিশিষ্ট এই নারী আইনজীবী। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের এক নতুন সিন্ডিকেটের বিবরণ উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

মূলত পুলিশের সাথে লোকাল বিএনপির টাকা ভাগাভাগি করার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সংসদ সদস্যের মুখ থেকে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি মনে করেন, ক্ষমতার হাতবদলের পরও মাঠপর্যায়ের এই অপসংস্কৃতির কোনো বদল ঘটেনি।

টকশোতে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কোনো অঞ্চলে অপরাধীদের তালিকা তৈরি বা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারা পুলিশকে প্রভাবিত করছেন। বর্তমানে পুলিশের সাথে লোকাল বিএনপির টাকা ভাগাভাগি সংক্রান্ত অনৈতিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, টাকা না দিলে মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোনে প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এছাড়া অতীতে সরকারের নানা ভুল পলিসি ও স্বাস্থ্য খাতের উদাসীনতা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াতকে সংসদের বাইরে রেখে একদলীয় শাসন চালানো হয়েছিল, আর এখন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলোকে মাঠের বাইরে রেখে সংসদ চালানো হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশের সাথে লোকাল বিএনপির টাকা ভাগাভাগি হওয়ার মতো ঘটনা বন্ধ করতে তিনি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর জোর দেন। পরিশেষে বলা যায়, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার প্রধান একই ব্যক্তি হওয়ায় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিচার বিভাগের ওপর সবসময় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি নেতিবাচক প্রবণতা কাজ করে।