ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 97

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এপ্রিলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও মার্চ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে জ্বালানি সংকট ও ডলারের বিনিময় হারের চাপে পরিস্থিতি আবারও অস্থির হতে পারে। মূলত আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নতুন করে চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূলত বোরো মৌসুমের চাল বাজারে আসায় এবং ওএমএস কার্যক্রমের ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯.০৯ শতাংশের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চ মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর মাত্র ৩৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ২৯.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত অর্থায়ন সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতিও গত বছরের তুলনায় কমেছে।

দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে, যা মার্চ মাসে ঋণাত্মক ১৮.০৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এর প্রধান কারণ। তবে আশার কথা হলো, রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। মূলত প্রবাসীদের পাঠানো আয় এই সংকটের সময়ে অর্থনীতিকে একটি সুরক্ষা বলয় প্রদান করছে।

জিইডি সতর্ক করেছে যে, বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের চড়া দাম বজায় থাকলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও তীব্র হবে। বর্তমানে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের বাস্তব আয় সংকুচিত হচ্ছে। অবশেষে বলা যায়, এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক ও সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জ্বালানি সংকটে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি

সর্বশেষ আপডেট ১১:১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এপ্রিলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও মার্চ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে জ্বালানি সংকট ও ডলারের বিনিময় হারের চাপে পরিস্থিতি আবারও অস্থির হতে পারে। মূলত আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নতুন করে চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূলত বোরো মৌসুমের চাল বাজারে আসায় এবং ওএমএস কার্যক্রমের ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯.০৯ শতাংশের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চ মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর মাত্র ৩৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ২৯.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত অর্থায়ন সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতিও গত বছরের তুলনায় কমেছে।

দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে, যা মার্চ মাসে ঋণাত্মক ১৮.০৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এর প্রধান কারণ। তবে আশার কথা হলো, রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। মূলত প্রবাসীদের পাঠানো আয় এই সংকটের সময়ে অর্থনীতিকে একটি সুরক্ষা বলয় প্রদান করছে।

জিইডি সতর্ক করেছে যে, বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের চড়া দাম বজায় থাকলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও তীব্র হবে। বর্তমানে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের বাস্তব আয় সংকুচিত হচ্ছে। অবশেষে বলা যায়, এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক ও সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।