চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর, পিবিআইকে তদন্তের আদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 111
চট্টগ্রামে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে সরিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে নজিরবিহীন সহিংসতা ও আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন নিহতের ভাই।
মূলত আলিফ হত্যা মামলা পিবিআইতে হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি অধিকতর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন আদালত। শুনানি শেষে আদালত ডিবি পুলিশের পরিবর্তে পিবিআইকে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তভার এতোদিন ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তফা কামালের ওপর ন্যস্ত ছিল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এজাহারভুক্ত শতাধিক কিংবা অজ্ঞাতনামা প্রায় ৫০০ আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিবি।
বর্তমানে আলিফ হত্যা মামলা পিবিআইতে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের ব্যর্থতায় মামলার বাদি তদন্ত কার্যক্রমের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন।
উল্লেখ্য যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীরা আদালত এলাকায় দাঙ্গা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সংঘর্ষ চলাকালেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে।
বর্তমানে আলিফ হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তরের ফলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, পিবিআইর পেশাদারিত্বের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত হবে বলেই আইনজীবী সমাজ আশা করছে।


































