ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই মাস, আসামি অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 68

চরফ্যাশনে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই মাস, আসামি অধরা

ভোলার চরফ্যাশনে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী স্থানীয় ব্যবসায়ী আল এমরান রাসেল। তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন।

মামলার বাদী জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৯ জুন সকালে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে তাজিন আহমেদ রাফসানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ হাইস্কুল চৌমহনী এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আল এমরান রাসেলের অভিযোগ, হালিমাবাদ ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামানের ছেলে ইমন, আকতার, নুর হোসেন ও অহিদের স্ত্রী মিনারা বেগম এবং তার ছেলে শরীফ ও আরিফ মিলে রাফসানকে লক্ষ্য করে এক কেটলি ফুটন্ত গরম পানি ছুড়ে মারেন। এতে রাফসানের নাক, শ্বাসনালি, মুখমণ্ডল, চোখ ও বুক ঝলসে যায়। পরে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়।

রাফসানকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তার সহপাঠী রাব্বিকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে গুরুতর আহত রাফসানকে বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর চরফ্যাশন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে তিনি চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রুজু হলেও দুই মাসেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আল এমরান রাসেল বলেন, আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। পথে দেখা হলে তাকে গলা কেটে হত্যার পর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূইয়া। তিনি বলেন, ভ্যানচালক ইমনের সঙ্গে রাফসানের ভ্যানে করে ধান নেওয়া ও ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাফসান ইমনের ওপর হামলা করেন এবং প্রথমে গরম চা নিক্ষেপ করেন। এতে দুজনই আহত হন। ইমন দরিদ্র হওয়ায় মামলা করেননি।

ওসি আরও বলেন, বাদীর সঙ্গে বিবাদীদের জমিজমা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। মামলাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই মাস, আসামি অধরা

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশনে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী স্থানীয় ব্যবসায়ী আল এমরান রাসেল। তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন।

মামলার বাদী জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৯ জুন সকালে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে তাজিন আহমেদ রাফসানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ হাইস্কুল চৌমহনী এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আল এমরান রাসেলের অভিযোগ, হালিমাবাদ ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামানের ছেলে ইমন, আকতার, নুর হোসেন ও অহিদের স্ত্রী মিনারা বেগম এবং তার ছেলে শরীফ ও আরিফ মিলে রাফসানকে লক্ষ্য করে এক কেটলি ফুটন্ত গরম পানি ছুড়ে মারেন। এতে রাফসানের নাক, শ্বাসনালি, মুখমণ্ডল, চোখ ও বুক ঝলসে যায়। পরে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়।

রাফসানকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তার সহপাঠী রাব্বিকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে গুরুতর আহত রাফসানকে বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর চরফ্যাশন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে তিনি চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রুজু হলেও দুই মাসেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আল এমরান রাসেল বলেন, আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। পথে দেখা হলে তাকে গলা কেটে হত্যার পর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূইয়া। তিনি বলেন, ভ্যানচালক ইমনের সঙ্গে রাফসানের ভ্যানে করে ধান নেওয়া ও ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাফসান ইমনের ওপর হামলা করেন এবং প্রথমে গরম চা নিক্ষেপ করেন। এতে দুজনই আহত হন। ইমন দরিদ্র হওয়ায় মামলা করেননি।

ওসি আরও বলেন, বাদীর সঙ্গে বিবাদীদের জমিজমা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। মামলাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।