ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভয়নগর থানার ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

অভয়নগর থানার ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর সেটি প্রকৃত মালিকের জিম্মায় না দিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোরের অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুজ্জামান ও উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয়ের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আল মামুন মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে গত ১৬ আগস্ট তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আল মামুনের অভিযোগ, গত ২৯ জুন অসুস্থ স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে যাওয়ার পথে অভয়নগর থানার চাম এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি এফজেড মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-১৭-৮৩০৩।

ঘটনার পর তিনি অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এসআই বিনয় বিষয়টি তদন্ত শুরু করলেও পরে নানা অজুহাতে তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হয় বলে দাবি করেন আল মামুন। একপর্যায়ে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করলেও সেটি তাঁর জিম্মায় দিতে গড়িমসি করা হয়।

আল মামুন বলেন, থানার পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন তাদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে মীমাংসা করেই মোটরসাইকেল নিতে হবে। তবে তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে তারা তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি ওসি ও এসআইকে জানালেও তাঁকে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপসের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

আল মামুন আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসির কক্ষে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপমান করা হয়। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাঁকে মারধর এবং বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নিরাপত্তা চাওয়ার পর ওসি নূরুজ্জামান তাঁকে বলেন, ‘আমি নিজেই নিরাপত্তাহীন, আপনাকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারব না’— এমন অভিযোগও করেছেন আল মামুন।

পরে তিনি বিষয়টি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলামকে জানান। তাঁর আশ্বাসে থানায় গেলেও মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আল মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট এসআই বিনয় তাঁকে থানায় ডেকে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবশেষে আল মামুন দাবি করেন, তাঁর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছেই মোটরসাইকেলটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে অভিযুক্ত পক্ষ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে নিতে বলে।

ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোনো কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নন এবং আগে মীমাংসা করে আসতে হবে— এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আল মামুন।

সংবাদ সম্মেলনে আল মামুন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে ওসি নূরুজ্জামান ও এসআই বিনয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অভয়নগর থানার ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর সেটি প্রকৃত মালিকের জিম্মায় না দিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোরের অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুজ্জামান ও উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয়ের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আল মামুন মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে গত ১৬ আগস্ট তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আল মামুনের অভিযোগ, গত ২৯ জুন অসুস্থ স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে যাওয়ার পথে অভয়নগর থানার চাম এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি এফজেড মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-১৭-৮৩০৩।

ঘটনার পর তিনি অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এসআই বিনয় বিষয়টি তদন্ত শুরু করলেও পরে নানা অজুহাতে তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হয় বলে দাবি করেন আল মামুন। একপর্যায়ে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করলেও সেটি তাঁর জিম্মায় দিতে গড়িমসি করা হয়।

আল মামুন বলেন, থানার পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন তাদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে মীমাংসা করেই মোটরসাইকেল নিতে হবে। তবে তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে তারা তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি ওসি ও এসআইকে জানালেও তাঁকে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপসের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

আল মামুন আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসির কক্ষে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপমান করা হয়। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাঁকে মারধর এবং বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নিরাপত্তা চাওয়ার পর ওসি নূরুজ্জামান তাঁকে বলেন, ‘আমি নিজেই নিরাপত্তাহীন, আপনাকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারব না’— এমন অভিযোগও করেছেন আল মামুন।

পরে তিনি বিষয়টি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলামকে জানান। তাঁর আশ্বাসে থানায় গেলেও মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আল মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট এসআই বিনয় তাঁকে থানায় ডেকে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবশেষে আল মামুন দাবি করেন, তাঁর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছেই মোটরসাইকেলটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে অভিযুক্ত পক্ষ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে নিতে বলে।

ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোনো কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নন এবং আগে মীমাংসা করে আসতে হবে— এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আল মামুন।

সংবাদ সম্মেলনে আল মামুন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে ওসি নূরুজ্জামান ও এসআই বিনয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।