এনবিআর ভেঙে দুই স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 112
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি পৃথক ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় একটি প্রতিষ্ঠান রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন দুটি প্রতিষ্ঠানের একটি হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ, যা সরকারের ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এ প্রতিষ্ঠান ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করবে।
অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পালন করবে। এটিকে সরকারের ‘অ্যাকশন টিম’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ও দক্ষতার সঙ্গে রাজস্ব সংগ্রহে কাজ করবে।
আমির খসরু বলেন, কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রাজস্ব নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বড় হলেও সে তুলনায় রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এ ব্যবধান পূরণে বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো, কর ফাঁকি ও কর পরিহার বন্ধ এবং অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতাদের নিয়মিত কর প্রদানে উৎসাহিত করতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও পরিকল্পিতভাবেই এটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায় বলেও জানান আমির খসরু। উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অর্থ দেশের নিজস্ব সম্পদ থেকে সংগ্রহের ওপর জোর দেন তিনি।
রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাদের যেন কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি যেতে না হয়, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সরকারের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ ও ‘ফেসলেস’ রাজস্ব প্রশাসন তৈরি করা।
এ লক্ষ্যে ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা কম কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ হার বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের অনুপাত ছিল মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন’ শুধু রাজস্ব সংগ্রহের হিসাব-নিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রেও এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






























