ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জামায়াত আমির

‘যে সাপ নাচাচ্ছেন, একদিন সেই সাপই ছোবল দেবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 26

জামায়াত আমির

বিশৃঙ্খলা, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন না করে নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে পারলে জনগণ সরকারকে সমর্থন করবে। তবে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, সংসদেও তাঁরা ‘বসন্তের কোকিলদের’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। যারা সুসময়ে পাশে থাকে, দুঃসময়ে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকালে তারা পাশে না থেকে পালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও আন্দোলন দিন দিন আরও জোরালো হবে। সংঘবদ্ধ জনশক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে। একপর্যায়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিমানবন্দরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর প্রতিবাদের সুফল এখন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা পাচ্ছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট, লাগেজ চুরি ও ব্যাগ কাটার মতো সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন।

জামায়াত আমিরের দাবি, তাঁর প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরে দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি লাগেজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা লাগেজ পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ তিনি কারও গায়ে হাত দেননি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁদের অপরাধ না থাকলে কেন বরখাস্ত করা হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালতে নেওয়ার সময় চোখ বেঁধে, মাথায় হেলমেট ও বুকে সেফটি ভেস্ট পরানোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষায়, পুরো ঘটনাটি লজ্জাজনক। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা দীর্ঘ সময় কারাগারে থেকেও প্রতিবাদের তাৎক্ষণিক সুফল পাননি। কিন্তু মেজর আখতারুজ্জামান এক মাস কারাভোগের পরই তাঁর প্রতিবাদের ফল পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তাঁদের সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জামায়াত আমির

‘যে সাপ নাচাচ্ছেন, একদিন সেই সাপই ছোবল দেবে’

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বিশৃঙ্খলা, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন না করে নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে পারলে জনগণ সরকারকে সমর্থন করবে। তবে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, সংসদেও তাঁরা ‘বসন্তের কোকিলদের’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। যারা সুসময়ে পাশে থাকে, দুঃসময়ে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকালে তারা পাশে না থেকে পালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও আন্দোলন দিন দিন আরও জোরালো হবে। সংঘবদ্ধ জনশক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে। একপর্যায়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিমানবন্দরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর প্রতিবাদের সুফল এখন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা পাচ্ছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট, লাগেজ চুরি ও ব্যাগ কাটার মতো সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন।

জামায়াত আমিরের দাবি, তাঁর প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরে দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি লাগেজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা লাগেজ পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ তিনি কারও গায়ে হাত দেননি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁদের অপরাধ না থাকলে কেন বরখাস্ত করা হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালতে নেওয়ার সময় চোখ বেঁধে, মাথায় হেলমেট ও বুকে সেফটি ভেস্ট পরানোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষায়, পুরো ঘটনাটি লজ্জাজনক। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা দীর্ঘ সময় কারাগারে থেকেও প্রতিবাদের তাৎক্ষণিক সুফল পাননি। কিন্তু মেজর আখতারুজ্জামান এক মাস কারাভোগের পরই তাঁর প্রতিবাদের ফল পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তাঁদের সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না।