দীনেশ ত্রিবেদী
অতীত ভুলে বাংলাদেশ-ভারতকে এগোতে হবে
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 12
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে অতীতের ঘটনাবলিতে আটকে না রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক। তাই নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকবেই। তবে সেগুলো বিবেচনায় রেখেই ভবিষ্যতের দিকে এগোতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও কথা হয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে অন্য দেশের মন্তব্য করা উচিত নয়। জনগণের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই দেশের মানুষের জন্য কোনটি ভালো, তা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝবে।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য। কারণ দুই দেশের সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলোর প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্ত নয়, স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। প্রতিবেশী হিসেবে তাই উভয় দেশের দায়িত্বও বেশি। দুই দেশ সমান; কেউ বড় বা ছোট নয়।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ভারতের চ্যালেঞ্জগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
‘আলোচনা সৌজন্যতার মধ্যেই ছিল’
বৈঠকটিকে মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করাকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এর বাইরে পুরো আলোচনা সৌজন্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।



























