নীলফামারীতে মাদকবিরোধী দিবস পালিত, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 21
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। পরে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।”
সভায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই মাদক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলার বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ। মাদকের কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। তাই মাদক পাচার, বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক আন্দোলন এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
































