৮০% ছেলে আনফিট’ বলে নিজের সাথে ‘লিভ টুগেদারের’ প্রস্তাব দিলেন খুবি অধ্যাপক
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 14
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশোভন বার্তা পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, স্লোগান ও প্রতীকী পুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করেছেন তারা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে ঘিরে ঘটনাটি সামনে আসে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রথমে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকলেও পরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তিকর ও অনৈতিক বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি করেন।
সমাবেশে শোনা যায় তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান—অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি থেকে শুরু করে তার শাস্তির আহ্বান পর্যন্ত। কর্মসূচির শেষে শিক্ষার্থীরা তার প্রতীকী পুত্তলিকা দাহ করেন।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, অতীতে এমন অভিযোগে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তারা এবার স্থায়ী সমাধান চান। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা যাবে না, এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
অন্য শিক্ষার্থী তানভীর বিন মুহিত অভিযোগের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষক যদি তার অবস্থান ব্যবহার করে অনৈতিক আচরণ করেন, তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি দাবি করেন, এই শিক্ষককে আর ক্যাম্পাসে দেখতে চান না এবং স্থায়ী বহিষ্কার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথনের স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে অধ্যাপক স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে অস্বস্তিকর ও ব্যক্তিগত বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। অভিযোগে উল্লেখ থাকা কিছু বার্তায় প্রেমের ইঙ্গিত, ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং অতিরিক্ত আবেগপূর্ণ বাক্য ছিল বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী জানান, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণের পরপরই বার্তা আসা শুরু হয়, যা তাকে বিস্মিত করে। ধীরে ধীরে বার্তাগুলো আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি বিষয়টি সহপাঠী ও ডিসিপ্লিন প্রতিনিধিদের জানান এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পেলেও পরে তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে সামনে আসেন। তার প্রত্যাশা, এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়, এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।
তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ওই সময়ের পরও একাধিকবার একাডেমিক বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি নিজের প্রোফাইল থেকে গবেষণা–সম্পর্কিত তথ্যও শেয়ার করেছেন। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে তারা মনে করেন।





































