ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কোটি টাকার বাজেট ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 579

চাঁদপুরে সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কোটি টাকার বাজেট ঝুঁকিতে। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

চাঁদপুর জেলায় সরকারি অর্থায়নে চলমান একটি বড় মাপের সড়ক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মেরামতের কোনো কাজ না করেই সরাসরি কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ, যা সড়কের স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের জন্য ঠিকাদার এবং সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা সরকারি প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাবকে আরও একবার সামনে তুলে ধরেছে।

প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) সড়কের বাকিলা বাজার থেকে বাগাদি চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৬.১৭৮ কিলোমিটার অংশে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এম/এস শহীদ ব্রাদার্স-এম/এস ওকে এন্টারপ্রাইজ জেভি-কে এপ্রিল ২০২৫ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত নির্ধারিত। তবে বাস্তবে এই কাজটি একজন স্থানীয় ঠিকাদার ফারুখ মিদ্দা নামে এক ব্যক্তি ক্রয় করে বাস্তবায়ন করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, এই ঠিকাদারের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলী বা নির্মাণ সামগ্রীও নেই। অদ্যাবধি সাইটে তার নিজস্ব কোনো বস্তু উপস্থিত নেই, যা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে গর্ত মেরামত (৪৬.১ ঘনমিটার), ইটের ড্রেন (৫০০ মিটার), আরসিসি ড্রেন (১০০ মিটার), আরসিসি ওয়াল (৪০৬ মিটার), এবং কার্পেটিং (১৬.১৭৮ কিলোমিটার)। কিন্তু অভিযোগকারীদের মতে, এসব কাজের কোনোটি এখনও শুরু হয়নি। ঠিকাদার ফারুখ মিদ্দা মেরামতের কাজগুলো উপেক্ষা করে শুধুমাত্র কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ, পুরো সড়কে ৫টি স্থানে মোট ৪৭৫ মিটার লম্বায় ৬ ইঞ্চি পুরুত্বের বেইজটাইপ-১ দ্বারা ২ লেয়ার কার্পেটিংসহ রিপেয়ার কাজ নির্ধারিত থাকলেও, শুধুমাত্র বাকিলা (৬৮ মিটার) এবং ওয়্যারলেস বাজারে (৪৪ মিটার) নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে নামমাত্র ৩ ইঞ্চি কম পুরুত্বে ১১২ মিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজে পাথরের তুলনায় বালু বেশি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কালো পিচযুক্ত রাস্তার বড় বড় ভাঙ্গা অংশ রোলার করা হয়েছে। বালুর মিশ্রণ দিয়ে কাজ করা হয়েছে, যেখানে পাথর ব্যবহার করার কথা ছিল। বাকি ৩৬৩ মিটার কাজ এবং সড়কের উচু-নিচু অংশে কোনো কার্পেটিং কাজ করার পরিকল্পনা নেই।

সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোসতাফিজুর রহমান (চাঁদপুর) এবং সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কুমিল্লা জোন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, চাঁদপুর) এই অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দুই কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ঠিকাদারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। আরও জানা গেছে, ঠিকাদার উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন এবং দুই কর্মকর্তাকে বাজারসহ অন্যান্য সুবিধা দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে, ঠিকাদারের নিজস্ব বা লিজকৃত কোনো যন্ত্রপাতি নেই, কিন্তু সরকারি রোলার, পেলোডারসহ ৫টি গাড়ি গত চার মাস ধরে কোনো আবেদন বা রাজস্ব আদায় ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুবিধার বিনিময়ে কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট ভর্তি করছেন, যা কর্মকর্তা-ঠিকাদারের যোগসাজশের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

প্রকল্পে আরও অস্বচ্ছতা দেখা যায় সাইট ল্যাবরেটরি ও সার্ভে ইকুইপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা স্থাপন না করার কারণে, যা নির্মাণের গুণগত মান এবং স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তার অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সপ্তাহে মাত্র দুই-তিনদিন সাইটে উপস্থিত হন এবং ঠিকাদারের সাথে আর্থিক ভাগাভাগা করে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাকি কাজ না করেই ঠিকাদার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এবং উপ-সহকারী মোসতাফিজুর রহমান লোক দেখানো কিছু কাজ করে অসম্পূর্ণ কাজের হিসাব ভাগাভাগা করবেন। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র উল্লিখিত ১১২ মিটার বেইজটাইপ কাজ ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি, এবং অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। ফলে সরকারি অর্থের লুটপাটের প্রমাণ স্পষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, মেরামত না করে সরাসরি কার্পেটিং করলে সড়ক কয়েক মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা সরকারি তহবিলের অপচয় হিসেবে গণ্য হবে। সড়ক বিভাগ, চাঁদপুর এবং ঠিকাদারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা অনিয়মের সন্দেহ আরও জোরালো করছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। সরকারি প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এখন জরুরি, অন্যথায় এমন অনিয়ম দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চাঁদপুরে সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কোটি টাকার বাজেট ঝুঁকিতে

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

চাঁদপুর জেলায় সরকারি অর্থায়নে চলমান একটি বড় মাপের সড়ক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মেরামতের কোনো কাজ না করেই সরাসরি কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ, যা সড়কের স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের জন্য ঠিকাদার এবং সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা সরকারি প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাবকে আরও একবার সামনে তুলে ধরেছে।

প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) সড়কের বাকিলা বাজার থেকে বাগাদি চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৬.১৭৮ কিলোমিটার অংশে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এম/এস শহীদ ব্রাদার্স-এম/এস ওকে এন্টারপ্রাইজ জেভি-কে এপ্রিল ২০২৫ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত নির্ধারিত। তবে বাস্তবে এই কাজটি একজন স্থানীয় ঠিকাদার ফারুখ মিদ্দা নামে এক ব্যক্তি ক্রয় করে বাস্তবায়ন করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, এই ঠিকাদারের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলী বা নির্মাণ সামগ্রীও নেই। অদ্যাবধি সাইটে তার নিজস্ব কোনো বস্তু উপস্থিত নেই, যা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে গর্ত মেরামত (৪৬.১ ঘনমিটার), ইটের ড্রেন (৫০০ মিটার), আরসিসি ড্রেন (১০০ মিটার), আরসিসি ওয়াল (৪০৬ মিটার), এবং কার্পেটিং (১৬.১৭৮ কিলোমিটার)। কিন্তু অভিযোগকারীদের মতে, এসব কাজের কোনোটি এখনও শুরু হয়নি। ঠিকাদার ফারুখ মিদ্দা মেরামতের কাজগুলো উপেক্ষা করে শুধুমাত্র কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ, পুরো সড়কে ৫টি স্থানে মোট ৪৭৫ মিটার লম্বায় ৬ ইঞ্চি পুরুত্বের বেইজটাইপ-১ দ্বারা ২ লেয়ার কার্পেটিংসহ রিপেয়ার কাজ নির্ধারিত থাকলেও, শুধুমাত্র বাকিলা (৬৮ মিটার) এবং ওয়্যারলেস বাজারে (৪৪ মিটার) নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে নামমাত্র ৩ ইঞ্চি কম পুরুত্বে ১১২ মিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজে পাথরের তুলনায় বালু বেশি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কালো পিচযুক্ত রাস্তার বড় বড় ভাঙ্গা অংশ রোলার করা হয়েছে। বালুর মিশ্রণ দিয়ে কাজ করা হয়েছে, যেখানে পাথর ব্যবহার করার কথা ছিল। বাকি ৩৬৩ মিটার কাজ এবং সড়কের উচু-নিচু অংশে কোনো কার্পেটিং কাজ করার পরিকল্পনা নেই।

সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোসতাফিজুর রহমান (চাঁদপুর) এবং সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কুমিল্লা জোন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, চাঁদপুর) এই অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দুই কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ঠিকাদারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। আরও জানা গেছে, ঠিকাদার উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন এবং দুই কর্মকর্তাকে বাজারসহ অন্যান্য সুবিধা দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে, ঠিকাদারের নিজস্ব বা লিজকৃত কোনো যন্ত্রপাতি নেই, কিন্তু সরকারি রোলার, পেলোডারসহ ৫টি গাড়ি গত চার মাস ধরে কোনো আবেদন বা রাজস্ব আদায় ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুবিধার বিনিময়ে কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট ভর্তি করছেন, যা কর্মকর্তা-ঠিকাদারের যোগসাজশের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

প্রকল্পে আরও অস্বচ্ছতা দেখা যায় সাইট ল্যাবরেটরি ও সার্ভে ইকুইপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা স্থাপন না করার কারণে, যা নির্মাণের গুণগত মান এবং স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তার অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সপ্তাহে মাত্র দুই-তিনদিন সাইটে উপস্থিত হন এবং ঠিকাদারের সাথে আর্থিক ভাগাভাগা করে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাকি কাজ না করেই ঠিকাদার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এবং উপ-সহকারী মোসতাফিজুর রহমান লোক দেখানো কিছু কাজ করে অসম্পূর্ণ কাজের হিসাব ভাগাভাগা করবেন। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র উল্লিখিত ১১২ মিটার বেইজটাইপ কাজ ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি, এবং অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। ফলে সরকারি অর্থের লুটপাটের প্রমাণ স্পষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, মেরামত না করে সরাসরি কার্পেটিং করলে সড়ক কয়েক মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা সরকারি তহবিলের অপচয় হিসেবে গণ্য হবে। সড়ক বিভাগ, চাঁদপুর এবং ঠিকাদারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা অনিয়মের সন্দেহ আরও জোরালো করছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। সরকারি প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এখন জরুরি, অন্যথায় এমন অনিয়ম দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।