৩ বছরের ঘুমন্ত শিশুকে গোডাউনে নিয়ে ধর্ষণ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 18
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় এক নজিরবিহীন ও পৈশাতিক পাশবিকতার শিকার হয়েছে তিন বছরের এক অবুজ কন্যাসন্তান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে দিনমজুর মা-বাবা কাজে থাকার সুযোগে ঘুমন্ত শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকোরেশনের নির্জন গোডাউনে নিয়ে যায় মো. মনির নামের এক বিবাহিত যুবক। সেখানে তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিশুটি অবচেতন হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় শিশুটির স্বজনা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ গণপিটুনির হাত থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
নগরের জনাকীর্ণ শ্রমজীবী কলোনিগুলোতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পারিবারিক নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি আবারও বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পাশের ঘরে নানির উপস্থিতিতেও এক পরিচিত প্রতিবেশীর লালসার শিকার হতে হলো অবুজ এক শিশুকে। মূলত ঘুমন্ত শিশুকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের জঘন্য ঘটনাটি পুরো রাজধানীতে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি অত্যন্ত শান্ত ও দরিদ্র প্রকৃতির বলে জানা গেছে।
পোশাক শ্রমিক মা ও অটোরিকশাচালক বাবা সকালে জীবিকার তাগিদে বাইরে যাওয়ার পর দুপুরে এই পৈশাতিক ঘটনা ঘটে। ডেকোরেশনের কাজে যুক্ত কুমিল্লাবাসী ঘাতক মনির ওই ফাঁকা গুদামটিকে অপরাধের আখড়া বানায়। নানি ভেবেছিলেন নাতনি বাইরে খেলছে, কিন্তু তীব্র গোঙানির শব্দ শুনে গোডাউনে ছুটে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত অবয়ব দেখতে পান। হাসপাতালে শয্যাশায়ী মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা প্রশ্ন তুলেছেন, গরিবের সন্তানের জীবন কি এতটাই সস্তা?
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা খুনিকে নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার দাবিতে পুলিশের ওপর চড়াও হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আটক মনিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সে শয়তানের প্ররোচনার অজুহাত দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং মনিরের কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে নিখুঁত চার্জশিট তৈরির কাজ চলছে। পরিশেষে বলা যায়, সমাজে ওত পেতে থাকা এই ধরণের বিকৃত মানসিকতার পশুদের প্রকাশ্য চত্বরে এনে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড না দিলে এই ধরণের পৈশাতিকতার লাগাম টানা সম্ভব নয়।






































