বগুড়া পুলিশ লাইন্সে এএসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 28
বগুড়া পুলিশ লাইন্সের ভেতর থেকে জেলা পুলিশের বেতার শাখায় কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আরিফুল ইসলামের (৩৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনাটি চাউর হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে সকালের কোনো এক সময়ে তিনি গলায় রশি দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন। নিহত এই পুলিশ কর্মকর্তা নাটোরের বাসিন্দা ছিলেন, যার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ব্যারাকে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পুলিশ বিভাগের ভেতরে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে কর্মস্থলের ভেতরেই তিনি কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা।
মূলত বগুড়া পুলিশ লাইন্সে এএসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এই এএসআই ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।
পুলিশ ব্যারাক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বেতার শাখায় অফিশিয়াল দায়িত্ব পালনের সময়ই এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে এএসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখার পর সহকর্মীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ অন্য কর্মকর্তারা স্পটে যান। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর সিলিং ফ্যান থেকে নিথর দেহটি নিচে নামানো হয়।
এটি কেবলই পারিবারিক বা মানসিক অবসাদজনিত আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে গোয়েন্দা বিভাগ। বর্তমানে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে এএসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমান বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের মানুষের মানসিক সুরক্ষার পাশাপাশি দিনরাত সেবাদানকারী পুলিশ সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এনেছে এই ঘটনা।






































