ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 74

রাশিয়া ও ইউক্রেন অর্থোডক্স ইস্টার ঘিরে ৩২ ঘণ্টার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ঘোষণার পরপরই নতুন হামলার খবর এবং পারস্পরিক সন্দেহ পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ক্রেমলিনের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও এই বিরতি মেনে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন আগেই এমন একটি মানবিক বিরতির প্রস্তাব তুলেছিল। তার ভাষায়, এটি মানুষের জন্য নিরাপদ ইস্টার উদযাপনের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার জন্য একটি সংকেত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আশা করছে ইউক্রেনও একইভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করবে। তবে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের জবাব দিতে সেনারা প্রস্তুত থাকবে।

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় প্রাণহানির খবর আসে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে তিনটি জেলায় প্রায় ৩০টি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দুইজন নিহত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত বছরের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পুনরাবৃত্তি, যা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের অভিযোগে ভেঙে পড়েছিল। চলমান বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগও বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই বিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা হয়নি এবং এটিকে নতুন শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে না।

এদিকে যুদ্ধ চললেও দুই দেশের মধ্যে মানবিক যোগাযোগ একেবারে থেমে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মরদেহ বিনিময়ের মতো বিরল কিছু উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে তুরস্কের মধ্যস্থতার ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।

জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, সামনে সময়টি ইউক্রেনের জন্য আরও কঠিন হতে পারে। তার মতে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে, আর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়া ও ইউক্রেন অর্থোডক্স ইস্টার ঘিরে ৩২ ঘণ্টার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ঘোষণার পরপরই নতুন হামলার খবর এবং পারস্পরিক সন্দেহ পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ক্রেমলিনের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও এই বিরতি মেনে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন আগেই এমন একটি মানবিক বিরতির প্রস্তাব তুলেছিল। তার ভাষায়, এটি মানুষের জন্য নিরাপদ ইস্টার উদযাপনের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার জন্য একটি সংকেত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আশা করছে ইউক্রেনও একইভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করবে। তবে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের জবাব দিতে সেনারা প্রস্তুত থাকবে।

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় প্রাণহানির খবর আসে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে তিনটি জেলায় প্রায় ৩০টি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দুইজন নিহত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত বছরের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পুনরাবৃত্তি, যা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের অভিযোগে ভেঙে পড়েছিল। চলমান বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগও বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই বিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা হয়নি এবং এটিকে নতুন শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে না।

এদিকে যুদ্ধ চললেও দুই দেশের মধ্যে মানবিক যোগাযোগ একেবারে থেমে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মরদেহ বিনিময়ের মতো বিরল কিছু উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে তুরস্কের মধ্যস্থতার ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।

জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, সামনে সময়টি ইউক্রেনের জন্য আরও কঠিন হতে পারে। তার মতে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে, আর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং থাকবে।