ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি সত্য নয়

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 12

হরমুজ প্রণালী

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নতুন চুক্তি সংক্রান্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি।

খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো চুক্তি সম্পাদিত হলেও হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ শাসনভার, জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও সময়সূচি নির্ধারণের একক ক্ষমতা ইরানের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই এটিকে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রচারণামূলক সস্তা চাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক রুট হরমুজ প্রণালীর একক কর্তৃত্ব নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তপ্ত আবহের মাঝেই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বার্তা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মূলত হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অসত্য শিরোনামের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের মনগড়া ও প্রচারণামূলক বক্তব্যের পেছনের আসল সত্য উন্মোচন করেছে। ইরানের ফার্স নিউজের সাংবাদিকেরা চুক্তিটির খসড়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণ করেছেন।

তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো ধরণের আপস করতে রাজি নয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অসত্য প্রমাণিত হওয়ার পর জানা গেছে যে, সম্ভাব্য চুক্তিতে এই প্রণালীর ব্যবস্থাপনা ও পথ নির্ধারণের সমস্ত চাবিকাঠি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অধীনেই থাকছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরান কেবল বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত সংখ্যা বাড়াতে সম্মত হয়েছে, তবে একে কোনোভাবেই ট্রাম্পের দাবি করা ‘যুদ্ধ-পূর্ব সম্পূর্ণ মুক্ত চলাচল’ বলা চলে না।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আলোচনার টেবিলে আনার শত চেষ্টা করা হলেও তেহরান নিজেদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অসত্য হওয়ার পাশাপাশি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পরমাণু বিষয়টি ইরান মোটেও অন্তর্ভুক্ত করেনি।

পরিশেষে বলা যায়, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারা গোপনে বার্তা পাঠিয়ে স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্পের এই টুইটগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের আকর্ষণ করার একটি প্রচারণামূলক রাজনৈতিক চাল মাত্র।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি সত্য নয়

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নতুন চুক্তি সংক্রান্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি।

খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো চুক্তি সম্পাদিত হলেও হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ শাসনভার, জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও সময়সূচি নির্ধারণের একক ক্ষমতা ইরানের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই এটিকে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রচারণামূলক সস্তা চাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক রুট হরমুজ প্রণালীর একক কর্তৃত্ব নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তপ্ত আবহের মাঝেই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বার্তা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মূলত হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অসত্য শিরোনামের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের মনগড়া ও প্রচারণামূলক বক্তব্যের পেছনের আসল সত্য উন্মোচন করেছে। ইরানের ফার্স নিউজের সাংবাদিকেরা চুক্তিটির খসড়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণ করেছেন।

তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো ধরণের আপস করতে রাজি নয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অসত্য প্রমাণিত হওয়ার পর জানা গেছে যে, সম্ভাব্য চুক্তিতে এই প্রণালীর ব্যবস্থাপনা ও পথ নির্ধারণের সমস্ত চাবিকাঠি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অধীনেই থাকছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরান কেবল বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত সংখ্যা বাড়াতে সম্মত হয়েছে, তবে একে কোনোভাবেই ট্রাম্পের দাবি করা ‘যুদ্ধ-পূর্ব সম্পূর্ণ মুক্ত চলাচল’ বলা চলে না।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আলোচনার টেবিলে আনার শত চেষ্টা করা হলেও তেহরান নিজেদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অসত্য হওয়ার পাশাপাশি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পরমাণু বিষয়টি ইরান মোটেও অন্তর্ভুক্ত করেনি।

পরিশেষে বলা যায়, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারা গোপনে বার্তা পাঠিয়ে স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্পের এই টুইটগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের আকর্ষণ করার একটি প্রচারণামূলক রাজনৈতিক চাল মাত্র।