ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্রে যা থাকছে
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ নামে ৪৫ পৃষ্ঠার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও এবারের সম্মেলনের স্বাগতিক নরেন্দ্র মোদি ঘোষণাপত্রটি অনুমোদনের কথা জানান।
ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে কাঠামোগত পরিবর্তন এনে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যৌথ ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একতরফাভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নাবিক ও বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ঘোষণাপত্রে।
ঘোষণাপত্র গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বকে পুরোনো ধাঁচের প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রতিনিধিত্ব, সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্কার এখন অপরিহার্য।
মোদি আরও বলেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং সেগুলো পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়নে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ ব্রিকসের দেশগুলোর যৌথ অঙ্গীকারকে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করার দায়িত্ব তাদের।
বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ঘোষণাপত্রে। এতে বলা হয়েছে, ঢালাওভাবে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধা বাড়ানো এবং পরিবেশ সুরক্ষার অজুহাতে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যব্যবস্থার প্রসার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ব্রিকস নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের বাণিজ্য-প্রতিবন্ধকতা বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এসব প্রবণতা বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেও ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

































