স্ত্রীসহ ফারইস্টের নজরুলের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর সংশোধিত বিধিমালা-২০১৯-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন।
আদালতের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এফডিআর আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, এসব সম্পদ ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তর বা পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা রেজিস্ট্রারদের ক্রোক করা সম্পদ কোনোভাবেই হস্তান্তর বা বিনিময় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র আরও জানায়, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই দায়ের করা একটি মামলায় গত ২৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন বলে দুদকের দাবি।
আদালতের আদেশে নজরুল ইসলামের নামে থাকা ২০টি দলিলের সম্পদ এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
নজরুল ইসলামের নামে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর ও গুলশান, ময়মনসিংহের ভালুকা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জে থাকা এসব সম্পদের সরকারি ক্রয়মূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমিসহ বাড়ি, কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৮ একর জমি এবং উত্তরায় ২১ দশমিক ২১ কাঠা জমি রয়েছে।
অন্যদিকে তাসলিমা ইসলামের নামে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদের সরকারি ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এসব সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, জমি, আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পত্তির সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। তবে এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিদেশে পাচার করা সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাড়ির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা নিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
































