ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালিশের পর গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 36

সালিশের পর গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় লামিয়া বৃষ্টি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়া ও রবিউলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে মাদক সেবন ও বিক্রি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন লামিয়া। অন্যথায় তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।

সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সালিশে বিরোধের মীমাংসা করা হয়। সালিশ শেষে অন্যরা চলে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবিউল ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়ার গলা কেটে পাশের বাড়ির একটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ডোবার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের মা শাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাঁর মেয়েকে মারধর করতেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে মেয়েকে ডেকে নেওয়ার পর হত্যার খবর পান তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সালিশের পর গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

সর্বশেষ আপডেট ০২:০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় লামিয়া বৃষ্টি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়া ও রবিউলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে মাদক সেবন ও বিক্রি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন লামিয়া। অন্যথায় তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।

সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সালিশে বিরোধের মীমাংসা করা হয়। সালিশ শেষে অন্যরা চলে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবিউল ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়ার গলা কেটে পাশের বাড়ির একটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ডোবার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের মা শাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাঁর মেয়েকে মারধর করতেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে মেয়েকে ডেকে নেওয়ার পর হত্যার খবর পান তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।