ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 25

সুপ্রিমকোর্ট

বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবনাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage- UHC) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

একেএম মাকসুদ, আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম ও সীমা দাস সিমুর পক্ষে ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদের দায়ের করা এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন- সকল নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে জীবনাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে কেন সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না- যা UHC বাস্তবায়ন তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করবে এবং তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং আর্থিক সংকটে পড়ছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই পাবে। তবে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে UHC বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত।

আবেদনকারীদের দাবি, বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, ফলে প্রতিবছর বহু পরিবার দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে। ক্যানসার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ অর্থ সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

রিটে আরও বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপি ও মোট বাজেটের তুলনায় কম এবং বরাদ্দের একটি অংশ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স-জনসংখ্যা অনুপাতও সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।

রিটকারীরা যুক্তি দেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একাধিক রায়ে স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং জীবনাধিকার শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ ও মানসম্মত জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও এর অন্তর্ভুক্ত।

তারা আশা প্রকাশ করেন, কার্যকরভাবে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে জনগণের আর্থিক চাপ কমবে, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবনাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage- UHC) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

একেএম মাকসুদ, আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম ও সীমা দাস সিমুর পক্ষে ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদের দায়ের করা এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন- সকল নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে জীবনাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে কেন সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না- যা UHC বাস্তবায়ন তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করবে এবং তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং আর্থিক সংকটে পড়ছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই পাবে। তবে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে UHC বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত।

আবেদনকারীদের দাবি, বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, ফলে প্রতিবছর বহু পরিবার দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে। ক্যানসার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ অর্থ সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

রিটে আরও বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপি ও মোট বাজেটের তুলনায় কম এবং বরাদ্দের একটি অংশ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স-জনসংখ্যা অনুপাতও সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।

রিটকারীরা যুক্তি দেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একাধিক রায়ে স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং জীবনাধিকার শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ ও মানসম্মত জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও এর অন্তর্ভুক্ত।

তারা আশা প্রকাশ করেন, কার্যকরভাবে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে জনগণের আর্থিক চাপ কমবে, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে।