ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা মৃত্যু বেড়েছে: ইউএনএইচসিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 35

ফাইল ছবি

গত বছর আন্দামান ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, ঝুঁকি জেনেও হতাশা আর অনিশ্চয়তার কারণে এই বিপজ্জনক যাত্রা থামছে না।

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর ঘিরে সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ২০২৫ সালটি বিশেষভাবে মর্মান্তিক হয়ে উঠেছিল। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ওই বছরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্রগুলোর একটি।

সংস্থার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় নামেন। হিসাব বলছে, প্রতি সাতজনের একজনের পরিণতি হয়েছে মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়া। এ হার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথগুলোকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রুট হিসেবে তুলে ধরে—একটি বাস্তবতা, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ইঙ্গিতও বহন করে।

এই যাত্রায় নারী ও শিশুর অংশগ্রহণও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে যাওয়া মানুষের অর্ধেকের বেশি এই দুই শ্রেণির। ২০২৬ সালেও সেই প্রবণতা কমেনি। জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই প্রায় ২ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা বিপজ্জনক নৌপথে যাত্রা করেছেন।

গত ২৬ মার্চ আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনাও তুলে ধরেছে ইউএনএইচসিআর। বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ওই নৌকাটি ডুবে গেলে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া এসব মানুষের জন্য চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউএনএইচসিআর বলছে, মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকি, এমনকি নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও বহু রোহিঙ্গা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। সাধারণত বাংলাদেশের কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে এসব নৌযাত্রা শুরু হয়।

তাদের অধিকাংশই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরতে চান—এ কথা বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, নাগরিকত্বহীনতা এবং নিরাপত্তাহীন বাস্তবতা সেই প্রত্যাবর্তনের পথকে কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। ফলে সমুদ্রই অনেকের কাছে হয়ে উঠছে শেষ ভরসা—যদিও সেই ভরসা প্রায়ই রূপ নিচ্ছে ট্র্যাজেডিতে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা মৃত্যু বেড়েছে: ইউএনএইচসিআর

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গত বছর আন্দামান ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, ঝুঁকি জেনেও হতাশা আর অনিশ্চয়তার কারণে এই বিপজ্জনক যাত্রা থামছে না।

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর ঘিরে সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ২০২৫ সালটি বিশেষভাবে মর্মান্তিক হয়ে উঠেছিল। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ওই বছরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্রগুলোর একটি।

সংস্থার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় নামেন। হিসাব বলছে, প্রতি সাতজনের একজনের পরিণতি হয়েছে মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়া। এ হার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথগুলোকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রুট হিসেবে তুলে ধরে—একটি বাস্তবতা, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ইঙ্গিতও বহন করে।

এই যাত্রায় নারী ও শিশুর অংশগ্রহণও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে যাওয়া মানুষের অর্ধেকের বেশি এই দুই শ্রেণির। ২০২৬ সালেও সেই প্রবণতা কমেনি। জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই প্রায় ২ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা বিপজ্জনক নৌপথে যাত্রা করেছেন।

গত ২৬ মার্চ আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনাও তুলে ধরেছে ইউএনএইচসিআর। বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ওই নৌকাটি ডুবে গেলে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া এসব মানুষের জন্য চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউএনএইচসিআর বলছে, মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকি, এমনকি নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও বহু রোহিঙ্গা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। সাধারণত বাংলাদেশের কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে এসব নৌযাত্রা শুরু হয়।

তাদের অধিকাংশই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরতে চান—এ কথা বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, নাগরিকত্বহীনতা এবং নিরাপত্তাহীন বাস্তবতা সেই প্রত্যাবর্তনের পথকে কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। ফলে সমুদ্রই অনেকের কাছে হয়ে উঠছে শেষ ভরসা—যদিও সেই ভরসা প্রায়ই রূপ নিচ্ছে ট্র্যাজেডিতে।