ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন বিজ্ঞানীদের রহস্যময় মৃত্যু-নিখোঁজে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 6

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যদিও এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চমাত্রার গোপন তথ্যের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণায় যুক্ত এসব ব্যক্তির ঘটনাগুলো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ঘটনাগুলো কাকতালীয় হতে পারে, তবে খুব শিগগিরই এ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে তিনি জানান, এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে অগ্রগতি জানা যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই পারমাণবিক গবেষণা, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি কিংবা ফিউশন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েকটি ঘটনার পরিস্থিতি ছিল অস্পষ্ট, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, নিখোঁজ বা মৃতদের মধ্যে কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে ঘটনাগুলো জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছে, এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সংগঠিত সংযোগের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘটনাগুলো সত্য হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তার মতে, এখনই এগুলোকে বড় কোনো সমন্বিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার মতো যথেষ্ট তথ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন হওয়ায় ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা কম। তাই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্কতা জরুরি।

উল্লেখ্য, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানে পারমাণবিক অস্ত্র, উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী বাসা থেকে বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে গিয়েছিলেন, যা ঘটনাগুলোকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। পাশাপাশি কয়েকজন বিজ্ঞানীর আকস্মিক বা সহিংস মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকারের মতে, গুপ্তচরবৃত্তি বা লক্ষ্যভিত্তিক অপহরণের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মার্কিন বিজ্ঞানীদের রহস্যময় মৃত্যু-নিখোঁজে উদ্বেগ

সর্বশেষ আপডেট ১১:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যদিও এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চমাত্রার গোপন তথ্যের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণায় যুক্ত এসব ব্যক্তির ঘটনাগুলো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ঘটনাগুলো কাকতালীয় হতে পারে, তবে খুব শিগগিরই এ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে তিনি জানান, এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে অগ্রগতি জানা যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই পারমাণবিক গবেষণা, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি কিংবা ফিউশন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েকটি ঘটনার পরিস্থিতি ছিল অস্পষ্ট, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, নিখোঁজ বা মৃতদের মধ্যে কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে ঘটনাগুলো জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছে, এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সংগঠিত সংযোগের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘটনাগুলো সত্য হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তার মতে, এখনই এগুলোকে বড় কোনো সমন্বিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার মতো যথেষ্ট তথ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন হওয়ায় ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা কম। তাই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্কতা জরুরি।

উল্লেখ্য, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানে পারমাণবিক অস্ত্র, উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী বাসা থেকে বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে গিয়েছিলেন, যা ঘটনাগুলোকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। পাশাপাশি কয়েকজন বিজ্ঞানীর আকস্মিক বা সহিংস মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকারের মতে, গুপ্তচরবৃত্তি বা লক্ষ্যভিত্তিক অপহরণের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।