ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আগামী রোববার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 40

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই নির্দেশ দেন। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের মধ্যকার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম এক অভূতপূর্ব ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ জুন (সোমবার) আদালত দুই আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। এর ঠিক পরদিন, ২ জুন চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করার মাধ্যমে সাক্ষ্য পর্ব শেষ করা হয়। গতকাল বুধবার (৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা আদালতের কাছে নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছিলেন, যার পর আজ যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ঠিক করা হলো।

এর আগে গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছিল। একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ১৭ জনকে সাক্ষী করে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট জমা দেন। এরপরই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের রুমের ভেতরে ডেকে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করার সময় তার মা আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং ঘরের একটি বড় বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আগামী রোববার

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই নির্দেশ দেন। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের মধ্যকার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম এক অভূতপূর্ব ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ জুন (সোমবার) আদালত দুই আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। এর ঠিক পরদিন, ২ জুন চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করার মাধ্যমে সাক্ষ্য পর্ব শেষ করা হয়। গতকাল বুধবার (৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা আদালতের কাছে নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছিলেন, যার পর আজ যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ঠিক করা হলো।

এর আগে গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছিল। একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ১৭ জনকে সাক্ষী করে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট জমা দেন। এরপরই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের রুমের ভেতরে ডেকে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করার সময় তার মা আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং ঘরের একটি বড় বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।