সাংবাদিক শফিকের মুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 15
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। আগামীকালের মধ্যে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সাধারণ সাংবাদিক সমাজ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনে মামলাটি নেওয়া হয়েছে এবং কোনো চাপের মুখে তা করা হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, আদালতের মাধ্যমে তদন্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরাসরি গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত অপ্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, “আমরা কোনো অন্যায়ের পক্ষে নই। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল।”
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও গ্রেপ্তারে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এরফানুল হক নাহিদ বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ফায়ার সার্ভিস নিয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজকে কোনোভাবেই উসকানি দেওয়া উচিত নয়।
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামীকালের মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পরীক্ষিত সংবাদকর্মী হাফিজুর রহমান শফিককে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একজন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে গ্রেপ্তার করা হবে- এটি তারা কল্পনাও করেননি।
দিদারুল আলম দিদারের অভিযোগ, এ ঘটনা প্রমাণ করে প্রশাসনের কিছু অংশে এখনো পুরোনো দমনমূলক মানসিকতা রয়ে গেছে। তিনি তথ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মামলার পেছনের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি যে প্রতিবেদনের কারণে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখানে উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।
তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে হলে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই হয়। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেও সাংবাদিকদের হয়রানি, নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অপরাধ করলে অবশ্যই বিচার হবে, তবে মিথ্যা মামলা বা জনতার চাপ সৃষ্টি করে কাউকে হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তারা আরও বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু সাংবাদিকদের নয়, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সুরক্ষা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, সাবেক নির্বাহী সদস্য এইচ এম আল-আমিন, জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, তাপস, জিয়াউর রহমান, বিএফইউজের কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ, নুরুল আবছার, আকাশ মনি প্রমুখ।































