দিল্লির বিক্ষোভে আইসিইউতে তরুণী, পার্লামেন্টে অমিত-ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 7
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ২০ বছর বয়সী এক তরুণী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার জেরে এবার পার্লামেন্টেও তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধীরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সোমবার (২০ জুলাই) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে যন্তর মন্তরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ওই তরুণী গুরুতর আহত হন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এ ঘটনায় অন্তত ৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা তার কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন—সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।
সংঘর্ষের পরও যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে মিছিল করেন। পরে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) এই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে ভারতের পার্লামেন্টেও। কালো পোশাক পরে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। সমাজবাদী পার্টির সদস্যরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হতে পারে না। তবে সরকার জানিয়েছে, সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংসদের উভয় কক্ষে এ বিষয়ে বিতর্ক আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































