ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে দুই আইনে আওয়ামী লীগের বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / 18

আওয়ামী লীগের বিচার তাদের নিজেদের প্রণয়ন করা আইনেই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নতুন কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯–এ সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিচার করার আইনি ভিত্তি রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠনের অভিযোগের মুখোমুখি। এসব অভিযোগের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সাংগঠনিক দায় (সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি) এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় তদন্তযোগ্য বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে ওই আইনের আওতায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ২০১৩ সালে আইন সংশোধন করে এতে ‘অর্গানাইজেশন’ বা সংগঠনের বিচার করার সুযোগ যুক্ত করা হয়।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনেও ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠন অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। অর্থাৎ রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি কাঠামো তারাই তৈরি করেছিল।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। একই আইনি কাঠামোর আওতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সম্ভব।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

তার দাবি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তদন্ত শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে দুই আইনে আওয়ামী লীগের বিচার

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আওয়ামী লীগের বিচার তাদের নিজেদের প্রণয়ন করা আইনেই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নতুন কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯–এ সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিচার করার আইনি ভিত্তি রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠনের অভিযোগের মুখোমুখি। এসব অভিযোগের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সাংগঠনিক দায় (সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি) এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় তদন্তযোগ্য বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে ওই আইনের আওতায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ২০১৩ সালে আইন সংশোধন করে এতে ‘অর্গানাইজেশন’ বা সংগঠনের বিচার করার সুযোগ যুক্ত করা হয়।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনেও ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠন অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। অর্থাৎ রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি কাঠামো তারাই তৈরি করেছিল।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। একই আইনি কাঠামোর আওতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সম্ভব।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

তার দাবি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তদন্ত শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।