ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে বিমানবন্দর থেকে পালালেন বিমানের ৭১ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / 21

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

বোর্ডিং গেটে পাঁচ যাত্রী আটকা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই একই গ্রুপের আরও ৭১ জন যাত্রী কৌশলে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ফলে মোট ৭৬ জন যাত্রী বিমানে ওঠেননি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আগেই তথ্য ছিল যে কথিত ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একটি বড় দল সেদিন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।

যাত্রীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বোর্ডিং গেটে পৌঁছানোর পর তাদের কাগজপত্র আবারও যাচাই করা হয়। এ সময় পাঁচ যাত্রীর পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাদের বোর্ডিং থেকে বিরত রাখা হলে বিষয়টি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর একই গ্রুপের আরও ৭১ জন যাত্রী বিমানে না উঠে বোর্ডিং এলাকা ছেড়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যান। ফলে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও ২৪৫ যাত্রীর মধ্যে ৭৬ জনই ফ্লাইটে ওঠেননি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই যাত্রীরা সবাই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। পুরো ঘটনাকে সম্ভাব্য মানবপাচারের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও এসব যাত্রী কীভাবে চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও ইমিগ্রেশনের একাধিক ধাপ পেরিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছালেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক যাচাইয়ে তাদের কাগজপত্রে আপত্তি ধরা না পড়লেও বোর্ডিং গেটে পুনরায় পরীক্ষা করে পাঁচজনের ভিসা জাল বা ত্রুটিপূর্ণ বলে শনাক্ত করা হয়। এরপরই পুরো সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরা পড়ার আশঙ্কায় বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ কাজে বিমানবন্দরের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের দালালদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তি, ট্রাভেল এজেন্সি এবং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারা এই যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিল, কোন ট্রাভেল এজেন্সি বা সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে এবং বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কারা সহযোগিতা করেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর আবারও বিমানবন্দরে মানবপাচারচক্রের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যেভাবে বিমানবন্দর থেকে পালালেন বিমানের ৭১ যাত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

বোর্ডিং গেটে পাঁচ যাত্রী আটকা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই একই গ্রুপের আরও ৭১ জন যাত্রী কৌশলে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ফলে মোট ৭৬ জন যাত্রী বিমানে ওঠেননি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আগেই তথ্য ছিল যে কথিত ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একটি বড় দল সেদিন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।

যাত্রীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বোর্ডিং গেটে পৌঁছানোর পর তাদের কাগজপত্র আবারও যাচাই করা হয়। এ সময় পাঁচ যাত্রীর পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাদের বোর্ডিং থেকে বিরত রাখা হলে বিষয়টি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর একই গ্রুপের আরও ৭১ জন যাত্রী বিমানে না উঠে বোর্ডিং এলাকা ছেড়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যান। ফলে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও ২৪৫ যাত্রীর মধ্যে ৭৬ জনই ফ্লাইটে ওঠেননি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই যাত্রীরা সবাই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। পুরো ঘটনাকে সম্ভাব্য মানবপাচারের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও এসব যাত্রী কীভাবে চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও ইমিগ্রেশনের একাধিক ধাপ পেরিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছালেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক যাচাইয়ে তাদের কাগজপত্রে আপত্তি ধরা না পড়লেও বোর্ডিং গেটে পুনরায় পরীক্ষা করে পাঁচজনের ভিসা জাল বা ত্রুটিপূর্ণ বলে শনাক্ত করা হয়। এরপরই পুরো সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরা পড়ার আশঙ্কায় বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ কাজে বিমানবন্দরের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের দালালদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তি, ট্রাভেল এজেন্সি এবং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারা এই যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিল, কোন ট্রাভেল এজেন্সি বা সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে এবং বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কারা সহযোগিতা করেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর আবারও বিমানবন্দরে মানবপাচারচক্রের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।