ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের নেতাকে জনগণের আস্থা অর্জনের পরামর্শ চীনের

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 21

মিয়ানমারের নেতাকে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হবে

নেপিদোর অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন ও টেকসই অগ্রগতির লক্ষ্যে মিয়ানমারের নতুন সরকারকে জনগণের সমর্থন ও আস্থা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত মঙ্গলবার বেইজিংয়ে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে, বেইজিং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে সবসময়ই বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তিনি দেশটির নতুন সরকারকে এমন একটি সঠিক উন্নয়নের পথ বের করার সমর্থন জানান, যা একদিকে যেমন মিয়ানমারের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, অন্যদিকে দেশটির আমজনতার মন জয় করতে সক্ষম হবে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিন অং হ্লাইং সরাসরি মিয়ানমার শাসন করে আসছেন, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ জাতিগত সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং সেগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। শি জিনপিং স্পষ্ট করেন যে, বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় চায়না মিয়ানমার ইকোনোমিক করিডোর এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা মিয়ানমারের ভঙ্গুর অর্থনীতি চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে আলোচনার টেবিলে চীনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার লড়াইয়ে বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে গত সোমবার পাঁচ দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছান মিয়ানমারের এই শীর্ষ নেতা। বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বেইজিংয়ে এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, যদিও তার আগে বহু বছর তিনি দেশের সামরিক প্রধান হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন। সফরকালে মিন অং হ্লাইং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করবেন। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন চীন ও মিয়ানমার উভয় পক্ষই তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সুইকে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

মেগা প্রতিবেশী চীনের এই সফরের ঠিক আগেই মিন অং হ্লাইং ভারত সফর করেছিলেন, যা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল। একের পর এক আঞ্চলিক পরাশক্তিদের সঙ্গে এই বৈঠক মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক মহলে সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক অংশীদারদের পাশে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টাকেই প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য যে, চীন বর্তমানে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যাদের মধ্যে গত বছর প্রায় ১৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মিয়ানমারের নেতাকে জনগণের আস্থা অর্জনের পরামর্শ চীনের

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

নেপিদোর অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন ও টেকসই অগ্রগতির লক্ষ্যে মিয়ানমারের নতুন সরকারকে জনগণের সমর্থন ও আস্থা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত মঙ্গলবার বেইজিংয়ে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে, বেইজিং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে সবসময়ই বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তিনি দেশটির নতুন সরকারকে এমন একটি সঠিক উন্নয়নের পথ বের করার সমর্থন জানান, যা একদিকে যেমন মিয়ানমারের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, অন্যদিকে দেশটির আমজনতার মন জয় করতে সক্ষম হবে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিন অং হ্লাইং সরাসরি মিয়ানমার শাসন করে আসছেন, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ জাতিগত সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং সেগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। শি জিনপিং স্পষ্ট করেন যে, বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় চায়না মিয়ানমার ইকোনোমিক করিডোর এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা মিয়ানমারের ভঙ্গুর অর্থনীতি চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে আলোচনার টেবিলে চীনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার লড়াইয়ে বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে গত সোমবার পাঁচ দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছান মিয়ানমারের এই শীর্ষ নেতা। বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বেইজিংয়ে এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, যদিও তার আগে বহু বছর তিনি দেশের সামরিক প্রধান হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন। সফরকালে মিন অং হ্লাইং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করবেন। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন চীন ও মিয়ানমার উভয় পক্ষই তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সুইকে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

মেগা প্রতিবেশী চীনের এই সফরের ঠিক আগেই মিন অং হ্লাইং ভারত সফর করেছিলেন, যা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল। একের পর এক আঞ্চলিক পরাশক্তিদের সঙ্গে এই বৈঠক মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক মহলে সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক অংশীদারদের পাশে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টাকেই প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য যে, চীন বর্তমানে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যাদের মধ্যে গত বছর প্রায় ১৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।