ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 10

সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ ও আর্থিক দায়ের চাপের মধ্যেই বর্তমান বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।

সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ ও দায়ভার সামাল দিতে হওয়ায় এবারের বাজেটকে ‘পারফেক্ট’ বলা যাবে না।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজেটের বিভিন্ন দিক সরকার এখনও পর্যালোচনা করছে। বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক নয়। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে বিদেশি ঋণের প্রবাহও কমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই সরকারকে বাজেট ঘোষণা করতে হয়েছে।

তিনি জানান, আগের সরকার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলের দায় রেখে গেছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের নীতিনির্ধারণী বিভাগ শুধু আমলানির্ভর থাকবে না; সেখানে কর বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, কর না দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের মানসিকতা দেশের অগ্রগতির পথে বাধা। যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পণ্য রপ্তানি করতে চাইলে বন্ড সুবিধা পাবে। আর বন্ড সুবিধা না নিলেও কর-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হবে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে মোট বরাদ্দের ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে রাখা হয়েছে। এটি কম কি না, সে বিতর্কে না গিয়ে তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করা। একইভাবে স্বাস্থ্যখাতেও ৫ শতাংশ বরাদ্দে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের মানুষের দক্ষতা বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই দুই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ ও আর্থিক দায়ের চাপের মধ্যেই বর্তমান বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।

সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ ও দায়ভার সামাল দিতে হওয়ায় এবারের বাজেটকে ‘পারফেক্ট’ বলা যাবে না।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজেটের বিভিন্ন দিক সরকার এখনও পর্যালোচনা করছে। বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক নয়। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে বিদেশি ঋণের প্রবাহও কমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই সরকারকে বাজেট ঘোষণা করতে হয়েছে।

তিনি জানান, আগের সরকার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলের দায় রেখে গেছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের নীতিনির্ধারণী বিভাগ শুধু আমলানির্ভর থাকবে না; সেখানে কর বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, কর না দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের মানসিকতা দেশের অগ্রগতির পথে বাধা। যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পণ্য রপ্তানি করতে চাইলে বন্ড সুবিধা পাবে। আর বন্ড সুবিধা না নিলেও কর-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হবে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে মোট বরাদ্দের ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে রাখা হয়েছে। এটি কম কি না, সে বিতর্কে না গিয়ে তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করা। একইভাবে স্বাস্থ্যখাতেও ৫ শতাংশ বরাদ্দে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের মানুষের দক্ষতা বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই দুই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।