ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার চালু মুন্সিগঞ্জে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 13

প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা; আরএফআইডি কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা ও ডিজিটাল লেনদেন করবেন বন্দিরা।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো ‘ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা’। এ ব্যবস্থার আওতায় দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। রোববার (২১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

‘নিরাপদ লেনদেন, স্বচ্ছ হিসাব, আধুনিক সেবা’ স্লোগান নিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে কারাগারটি। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দিদের নিরাপত্তা, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং আর্থিক লেনদেনে আনা হয়েছে নতুন পরিবর্তন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক ও সুরক্ষিত এ ব্যবস্থায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ভুল গণনা ও নিরাপত্তা তদারকি করা সম্ভব হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনরা কারাগারে এসে যে অর্থ জমা দেবেন, তা সরাসরি বন্দির নির্দিষ্ট ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। পরে বন্দিরা নিজেদের আরএফআইডি কার্ড ব্যবহার করে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারবেন। ফলে কারাগারের ভেতরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ লেনদেন হবে না।

ডিজিটাল লেনদেনের ৬ ধাপ

১. টাকা নিয়ে আগমন

বন্দির আত্মীয়-স্বজন টাকা নিয়ে কারাগারে আসবেন।

২. গ্রহণ ও হিসাবভুক্তকরণ

দায়িত্বরত কর্মকর্তা টাকা গ্রহণ করে তা সঙ্গে সঙ্গে বন্দির নামে ডিজিটালভাবে হিসাবভুক্ত করবেন।

৩. ব্যাংকে জমা

সংগৃহীত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকে জমা করা হবে।

৪. অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট

টাকাটি বন্দির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে যোগ হবে।

৫. ক্যান্টিন ও সেবা বাবদ খরচ

কারাগারের ভেতরের সব ধরনের লেনদেন ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই কেটে নেওয়া হবে।

৬. মুক্তির পর অবশিষ্ট টাকা উত্তোলন

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বন্দি মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবশিষ্ট টাকা তুলতে পারবেন।

কারা অধিদপ্তরের মতে, এই উদ্যোগের ফলে নগদ লেনদেন বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বন্দিদের নিরাপত্তা তদারকি আরও কার্যকর হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার চালু মুন্সিগঞ্জে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা; আরএফআইডি কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা ও ডিজিটাল লেনদেন করবেন বন্দিরা।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো ‘ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা’। এ ব্যবস্থার আওতায় দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। রোববার (২১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

‘নিরাপদ লেনদেন, স্বচ্ছ হিসাব, আধুনিক সেবা’ স্লোগান নিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে কারাগারটি। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দিদের নিরাপত্তা, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং আর্থিক লেনদেনে আনা হয়েছে নতুন পরিবর্তন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক ও সুরক্ষিত এ ব্যবস্থায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ভুল গণনা ও নিরাপত্তা তদারকি করা সম্ভব হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনরা কারাগারে এসে যে অর্থ জমা দেবেন, তা সরাসরি বন্দির নির্দিষ্ট ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। পরে বন্দিরা নিজেদের আরএফআইডি কার্ড ব্যবহার করে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারবেন। ফলে কারাগারের ভেতরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ লেনদেন হবে না।

ডিজিটাল লেনদেনের ৬ ধাপ

১. টাকা নিয়ে আগমন

বন্দির আত্মীয়-স্বজন টাকা নিয়ে কারাগারে আসবেন।

২. গ্রহণ ও হিসাবভুক্তকরণ

দায়িত্বরত কর্মকর্তা টাকা গ্রহণ করে তা সঙ্গে সঙ্গে বন্দির নামে ডিজিটালভাবে হিসাবভুক্ত করবেন।

৩. ব্যাংকে জমা

সংগৃহীত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকে জমা করা হবে।

৪. অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট

টাকাটি বন্দির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে যোগ হবে।

৫. ক্যান্টিন ও সেবা বাবদ খরচ

কারাগারের ভেতরের সব ধরনের লেনদেন ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই কেটে নেওয়া হবে।

৬. মুক্তির পর অবশিষ্ট টাকা উত্তোলন

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বন্দি মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবশিষ্ট টাকা তুলতে পারবেন।

কারা অধিদপ্তরের মতে, এই উদ্যোগের ফলে নগদ লেনদেন বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বন্দিদের নিরাপত্তা তদারকি আরও কার্যকর হবে।