৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 29
ধারাবাহিক বৃষ্টি আর উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে. অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি এখন বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে. ইতিমধ্যেই নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোতে অবিরাম পানি ঢুকতে শুরু করেছে এবং অনেক আবাদী জমি প্লাবিত হয়েছে. পরিস্থিতি চলমান থাকলে আজকের মধ্যেই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা. এর ফলে রংপুর অঞ্চলের ৫টি জেলা—লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে.
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে. এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা হলো ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, অর্থাৎ পানি এখন বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে. এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টায় এই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার. লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানিয়েছেন যে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে. ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী.
নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই তীরের চরাঞ্চলের কৃষকরা চরম দিশাহারা হয়ে পড়েছেন. মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানান যে পাহাড়ি ঢলের তীব্র গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার বড় বন্যা হতে পারে, ইতিমধ্যেই তাঁদের আমন ধানের চারার তৈরিকৃত বীজতলাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে. এছাড়া হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ও কালীগঞ্জের চর শৌলমারী এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন যে পানি চরাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে এবং আর একটু বাড়লেই তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে. রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন যে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ের ভাঙন ও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে.




































