পুলিশের মনোবল ও জনআস্থা ফেরাতে ১৪ কোটির মহাপরিকল্পনা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 14
বিগত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পরবর্তী বাস্তবতায় দেশের পুলিশ বাহিনীর ভেঙে পড়া নৈতিক মনোবল পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১৪ কোটি টাকার একটি বৃহৎ ও বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই অর্থ দেশের ৬৪ জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার, পুলিশের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও মোটিভেশনাল ক্যাম্পেইনের পেছনে ব্যয় করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় নতুন করে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসে দেশের ৬৬৪টি থানায় সাইবার অপরাধ ও মাদক প্রতিরোধে মোট ৩ হাজার ৯৮৪টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক আইন সচেতনতায় ৪৩২টি ক্যাম্পেইন এবং র্যাব সদস্যদের জন্য ২৭০টি বিশেষ মোটিভেশনাল সেশন পরিচালনা করা হবে। এছাড়া জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ন্যূনতম বলপ্রয়োগ নীতি’ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে ২ হাজার ১৬০ জন পুলিশ সদস্যকে ৫ দিন মেয়াদি ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশেষ এই মহাপরিকল্পনায় নারীবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিয়ে ৮টি বিভাগীয় শহরে নারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং দেশের ৬৪টি সদর থানার বিশেষ ডেস্কগুলোকে আধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে ‘মডেল ডেস্কে’ রূপান্তর করা হবে। একই সাথে সদর থানাগুলোকে হয়রানিমুক্ত ‘জিরো কমপ্লেইন্টস সেন্টার’-এ পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেবার মান বাড়াতে ৩০ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার নির্দেশনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে ৩টি পৃথক গবেষণা ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজস্ব বাজেট থেকে ২ কোটি এবং প্রশিক্ষণ খাতে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন এই উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেন, “জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে।” তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন সতর্ক করে বলেন, “শুধু কর্মশালা বা পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে জনআস্থা পুরোপুরি ফিরবে না; এর জন্য মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা ও মানবাধিকারের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
































