বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবন এগিয়ে নিতে আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 17
দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিং, গবেষণা, প্রকাশনা ও উদ্ভাবনে এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছায়নি। একবিংশ শতাব্দীর চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোনো এখন সময়ের দাবি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এআই, রোবটিক্স, অটোমেশন, আইওটি, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি ও বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আনছে—একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে চাকরির ধরন বদলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের হয়ে দক্ষতা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় যেতে হবে। শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষায় ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে হবে এবং কারিকুলাম প্রণয়নে বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্ঞান এখন আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই—ডাটা সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সামাজিক বিজ্ঞানের সমন্বয় নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
তিনি জানান, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যার একটি বড় কারণ দক্ষতার ঘাটতি। তাই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার করছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন গ্রান্ট, সিড ফান্ডিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা শুধু চাকরি খোঁজার বদলে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারবে। এজন্য সায়েন্স পার্ক, ইনোভেশন ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সম্পদ কম থাকলেও তারা আইডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব তৈরি করেছে—যা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বাস্তবতা তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি এলামনাইদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে, কারণ তারা গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারেন।
মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ব্যবহার করেও সঠিক পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। মেধার বিকাশ ও পাচার রোধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক ও ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম।

































