ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত বাজেট নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা: সিপিডি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 23

সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেটকে বর্তমান সরকারের জন্য টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আজ শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই বাজেটটি এমন এক সময়ে পেশ করা হয়েছে যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক ও তীব্র চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় চার বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি দুর্বল হওয়া, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মন্দা, কর্মসংস্থানের অভাব, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ থাকলেও তা বর্তমানে মোটামুটি একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হলো জ্বালানি খাতের ক্রিটিক্যাল অবস্থা। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত মূল দর্শন হলো মানব সম্পদ উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষার জাল বিস্তৃত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। এতে ভৌত অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছে যে, বাজেটের এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্যসমূহ অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়গুলোতে স্পষ্ট মিল রয়েছে। তবে সিপিডি স্পষ্ট জানিয়েছে, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য এর বিশাল আকারের ওপর নয়, বরং তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গুণগত মানের ওপর। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলে, কাগজে-কলমে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন দুর্বল হলে সাধারণ মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত সুফল পায় না।

বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে মনে করে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, এমন দক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন যা সফলভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করে জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে পারবে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই বাজেটটি নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষাও বটে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা। সরকার যদি এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তবে তা দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের মূল সূচকসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

  • বাজেটের আকার: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
  • মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ৬ লাখ ৯default৫ হাজার কোটি টাকা।
  • নিট বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
  • জিডিপির প্রাক্কলিত আকার: ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
  • মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার লক্ষ্য: ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার মূলত দুটি প্রধান উৎসের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে:

১. অভ্যন্তরীণ উৎস: অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে (যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে)।

২. বৈদেশিক উৎস: বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে বাকি ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রস্তাবিত বাজেট নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা: সিপিডি

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেটকে বর্তমান সরকারের জন্য টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আজ শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই বাজেটটি এমন এক সময়ে পেশ করা হয়েছে যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক ও তীব্র চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় চার বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি দুর্বল হওয়া, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মন্দা, কর্মসংস্থানের অভাব, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ থাকলেও তা বর্তমানে মোটামুটি একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হলো জ্বালানি খাতের ক্রিটিক্যাল অবস্থা। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত মূল দর্শন হলো মানব সম্পদ উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষার জাল বিস্তৃত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। এতে ভৌত অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছে যে, বাজেটের এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্যসমূহ অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়গুলোতে স্পষ্ট মিল রয়েছে। তবে সিপিডি স্পষ্ট জানিয়েছে, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য এর বিশাল আকারের ওপর নয়, বরং তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গুণগত মানের ওপর। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলে, কাগজে-কলমে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন দুর্বল হলে সাধারণ মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত সুফল পায় না।

বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে মনে করে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, এমন দক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন যা সফলভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করে জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে পারবে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই বাজেটটি নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষাও বটে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা। সরকার যদি এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তবে তা দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের মূল সূচকসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

  • বাজেটের আকার: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
  • মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ৬ লাখ ৯default৫ হাজার কোটি টাকা।
  • নিট বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
  • জিডিপির প্রাক্কলিত আকার: ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
  • মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার লক্ষ্য: ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার মূলত দুটি প্রধান উৎসের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে:

১. অভ্যন্তরীণ উৎস: অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে (যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে)।

২. বৈদেশিক উৎস: বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে বাকি ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।