৩ দফা দাবি
শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ববি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 87
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের আলোচনা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। বিকেল ৫টার মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর আহত ইয়াসিন আরাফাতের খোঁজ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দাবি করেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত অবস্থায় থাকা আরাফাতকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো; নিহত ইয়াসিন আরাফাতের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্টের দায়িত্বে কোনো অবহেলা থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং সময়মতো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা না যাওয়ার দায় উপাচার্যকে নিতে হবে।
বিকেল ৫টার মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানানোর জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত না পেলে তারা পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আলোচনার সময় উপাচার্যের কার্যালয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের উপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে তিনি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাসেল বলেন, তিনটি দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান জানাবে। এরপর প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, দুর্ঘটনার পর তারা দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি। তার অভিযোগ, আরাফাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের অবহেলার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। উপাচার্য, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। প্রক্টর তখন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন। এরপরও প্রশাসনের কোনো অবহেলা বা দায় থাকলে তা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে সড়কে যানজট থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না করার বিষয়ে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এসি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহত শিক্ষার্থীকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের জবাবদিহির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তাদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা থাকলে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আর নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে।

































