পীরের দেহাবশেষ তুলে দাফন, কুষ্টিয়ায় ভক্ত গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 9
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফে পুনরায় দাফনের ঘটনায় এক ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার লালা প্রামাণিক (৪২) ওই পীরের মুরিদ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত মেছের প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীমের দেহাবশেষ তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত ওই কবরস্থান থেকে দেহাবশেষ নিয়ে তার প্রতিষ্ঠিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফে’ পুনরায় দাফন করা হয়।
পরদিন সকালে বিষয়টি শামিমের স্বজনদের নজরে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফের নতুন কবর থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে সেগুলো আবার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় শামিমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ওই রাতেই দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ভবিষ্যতে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে নেওয়া ঠেকাতে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর কবরটি ইট দিয়ে গেঁথে ঢালাই করে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে শামিমের এক ভক্তের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে লালা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, তদন্তে ওই পীরের এক মুরিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।




























