ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী নেতৃত্বে বাধা বরাদ্দহীন সংরক্ষিত আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / 320

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ড. নিলুফার মনি। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও বাস্তবে তাদের ক্ষমতায়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন নারী নেত্রী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ড. নিলুফার মনি। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রেরণার দীপশিখা: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য নারী’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে নারী মৈত্রী।

ড. নিলুফার মনি বলেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৩টি। পরে ধাপে ধাপে সেই সংখ্যা ৩০, ৪৫ ও ৫০-এ উন্নীত হয়। বর্তমানে তা ১০০-এ উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এ নিয়ে সংসদে আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে তিনটি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারণের সিদ্ধান্তের কথাও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একজন পুরুষ কাউন্সিলর একটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন, কিন্তু একজন নারী কাউন্সিলরকে তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করতে হয়। অথচ নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ থাকে না। ফলে জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং পরবর্তী নির্বাচনে তাদের নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়েও একই চিত্র দেখা যায়। নারী ভাইস চেয়ারম্যানরা সংরক্ষিত পদে নির্বাচিত হলেও তাদের কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষমতা বা সুযোগ থাকে না।

ড. নিলুফার মনি শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই মেয়ে এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে এ হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। তার মতে, পরিবার বিশেষ করে বাবাদের মানসিকতার পরিবর্তনের কারণে মেয়েরা আজ উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। তবে রাজনীতি ও ক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মানসিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জাহান-ই-গুলশান। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির প্রোগ্রাম পরিচালক খালিদ বিন ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর সভাপতি মাসুরা আলম।

শাহীন আক্তার ডলি তার বক্তব্যে নারীর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নারীকে সম্মান ও মর্যাদার স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে নারী মৈত্রী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন বিলকিস আক্তার, রিনা আক্তার, রহিমা খাতুন, নূরজাহান বেগম মালা, আকলিমা আক্তার, রেহানা, জেসমিন, মীম ইসলাম ও মাহিনুর।

সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা তাদের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন। বিলকিস আক্তার জানান, ছোটবেলায় বাবার পরিত্যাগের পর নারী মৈত্রীর সহযোগিতায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছেন এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জন করেছেন।

এদিকে ট্রান্সজেন্ডার মেকআপ আর্টিস্ট মীম ইসলাম বলেন, সমাজ ও পরিবারের অবহেলার মধ্যেও নারী মৈত্রীর সহায়তায় তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সজেন্ডার ও বিধবা নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারী মৈত্রীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা হুদা ও নাহিদা সুলতানা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী নেতৃত্বে বাধা বরাদ্দহীন সংরক্ষিত আসন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও বাস্তবে তাদের ক্ষমতায়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন নারী নেত্রী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ড. নিলুফার মনি। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রেরণার দীপশিখা: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য নারী’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে নারী মৈত্রী।

ড. নিলুফার মনি বলেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৩টি। পরে ধাপে ধাপে সেই সংখ্যা ৩০, ৪৫ ও ৫০-এ উন্নীত হয়। বর্তমানে তা ১০০-এ উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এ নিয়ে সংসদে আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে তিনটি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারণের সিদ্ধান্তের কথাও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একজন পুরুষ কাউন্সিলর একটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন, কিন্তু একজন নারী কাউন্সিলরকে তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করতে হয়। অথচ নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ থাকে না। ফলে জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং পরবর্তী নির্বাচনে তাদের নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়েও একই চিত্র দেখা যায়। নারী ভাইস চেয়ারম্যানরা সংরক্ষিত পদে নির্বাচিত হলেও তাদের কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষমতা বা সুযোগ থাকে না।

ড. নিলুফার মনি শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই মেয়ে এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে এ হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। তার মতে, পরিবার বিশেষ করে বাবাদের মানসিকতার পরিবর্তনের কারণে মেয়েরা আজ উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। তবে রাজনীতি ও ক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মানসিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জাহান-ই-গুলশান। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির প্রোগ্রাম পরিচালক খালিদ বিন ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর সভাপতি মাসুরা আলম।

শাহীন আক্তার ডলি তার বক্তব্যে নারীর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নারীকে সম্মান ও মর্যাদার স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে নারী মৈত্রী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন বিলকিস আক্তার, রিনা আক্তার, রহিমা খাতুন, নূরজাহান বেগম মালা, আকলিমা আক্তার, রেহানা, জেসমিন, মীম ইসলাম ও মাহিনুর।

সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা তাদের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন। বিলকিস আক্তার জানান, ছোটবেলায় বাবার পরিত্যাগের পর নারী মৈত্রীর সহযোগিতায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছেন এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জন করেছেন।

এদিকে ট্রান্সজেন্ডার মেকআপ আর্টিস্ট মীম ইসলাম বলেন, সমাজ ও পরিবারের অবহেলার মধ্যেও নারী মৈত্রীর সহায়তায় তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সজেন্ডার ও বিধবা নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারী মৈত্রীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা হুদা ও নাহিদা সুলতানা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।