দেশে জ্বালানি তেলের সংকট: কবে মিলবে কাঙ্ক্ষিত সমাধান?
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / 142
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত থামলেও দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সহসা কাটছে না। মূলত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। রাজধানীর আগারগাঁও, শাহবাগসহ বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনে যানবাহন চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আসলে যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে বাজারে তেলের এই কৃত্রিম হাহাকার আরও বেড়েছে। ডিপো এবং পাম্প মালিকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাঝে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক জায়গায় অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে, বর্তমানে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও গ্রাহকের চাপ অনেক বেশি। ফলে পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে যে, সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি তেলে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। মূলত প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতির প্রভাব বিশ্ব বাজারে এখনো পুরোপুরি পড়েনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহনের মূল রুট। যুদ্ধের সময় এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ভেঙে পড়েছে। তাছাড়া যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ তেল আমদানি করে, তাদের জাহাজগুলো এখনো এই নৌপথে আটকে রয়েছে। যার ফলে আমদানিকারক দেশগুলো সময়মতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না।
গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান যে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়ায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করবে। তখন সরবরাহ বাড়লে সংকট ধীরে ধীরে দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অবশ্য বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই বিশাল সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। তাই তেলের এই সংকট দূর হলে দেশের অর্থনীতির অন্যান্য সমস্যাও কিছুটা লাঘব হবে।
































