ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জিম্মি সাধারণ যাত্রীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 62

বাস চলাচল বন্ধ

চাঁদা আদায় ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটের সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মূলত দুটি শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দ্বৈত চাঁদাবাজির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসন সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জেলার ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মূলত বাস থেকে আলাদাভাবে চাঁদা আদায় বা ‘দ্বৈত চাঁদাবাজি’ নিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। ফলে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি থমকে দাঁড়িয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, তারা সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি ডেকেছে। অন্যদিকে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, ট্রাক শ্রমিক সংগঠনগুলো অযৌক্তিকভাবে বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে। বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে পরিবহন ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় সন্ধ্যার মধ্যে সমাধানের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজি নিরসনে পুলিশ প্রশাসন দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই সমঝোতায় আসতে রাজি হয়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানিয়েছেন, সড়কে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে টার্মিনালগুলোতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া সমস্যার সমাধান না হলে মালবাহী যানও বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষের কথা ভেবে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা জরুরি। অবশেষে বলা যায়, শ্রমিকদের পারস্পরিক এই দ্বন্দ্বে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত পরিবহন ধর্মঘট নিরসনই এখন সময়ের দাবি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জিম্মি সাধারণ যাত্রীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদা আদায় ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটের সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মূলত দুটি শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দ্বৈত চাঁদাবাজির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসন সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জেলার ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মূলত বাস থেকে আলাদাভাবে চাঁদা আদায় বা ‘দ্বৈত চাঁদাবাজি’ নিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। ফলে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি থমকে দাঁড়িয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, তারা সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি ডেকেছে। অন্যদিকে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, ট্রাক শ্রমিক সংগঠনগুলো অযৌক্তিকভাবে বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে। বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে পরিবহন ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় সন্ধ্যার মধ্যে সমাধানের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজি নিরসনে পুলিশ প্রশাসন দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই সমঝোতায় আসতে রাজি হয়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানিয়েছেন, সড়কে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে টার্মিনালগুলোতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া সমস্যার সমাধান না হলে মালবাহী যানও বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষের কথা ভেবে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা জরুরি। অবশেষে বলা যায়, শ্রমিকদের পারস্পরিক এই দ্বন্দ্বে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত পরিবহন ধর্মঘট নিরসনই এখন সময়ের দাবি।