ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকটে জেলার সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। গত তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ওপরও।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে ধীরে ধীরে সংকট আরও তীব্র হয়ে শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

জেলায় পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এসব স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হতো। তবে চাহিদা এর প্রায় দ্বিগুণ। সংকটের আগে ১৫ পিএসআই চাপের পরিবর্তে মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচলও কমে গেছে। অনেক চালক গাড়ি পার্ক করে রেখেছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। এতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যেতে এক যাত্রী জানান, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। নিয়মিত ৪০ টাকা ভাড়ার জায়গায় চালক ৮০ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় যাত্রায় রাজি হন চালক।

অন্যদিকে, সিএনজি অটোরিকশা চালক জনি মিয়া জানান, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নিয়মিত শেয়ারভাড়া ৫০ টাকা। গ্যাস সংকটের পর ভাড়া ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল। বর্তমানে এলপিজি দিয়ে গাড়ি চালাতে হওয়ায় তিনি ৯০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন।

ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, বুধবার থেকে স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করার কথা জানিয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক জানান, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট কবে নাগাদ কাটবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট কাটাতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকটে জেলার সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। গত তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ওপরও।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে ধীরে ধীরে সংকট আরও তীব্র হয়ে শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

জেলায় পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এসব স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হতো। তবে চাহিদা এর প্রায় দ্বিগুণ। সংকটের আগে ১৫ পিএসআই চাপের পরিবর্তে মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচলও কমে গেছে। অনেক চালক গাড়ি পার্ক করে রেখেছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। এতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যেতে এক যাত্রী জানান, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। নিয়মিত ৪০ টাকা ভাড়ার জায়গায় চালক ৮০ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় যাত্রায় রাজি হন চালক।

অন্যদিকে, সিএনজি অটোরিকশা চালক জনি মিয়া জানান, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নিয়মিত শেয়ারভাড়া ৫০ টাকা। গ্যাস সংকটের পর ভাড়া ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল। বর্তমানে এলপিজি দিয়ে গাড়ি চালাতে হওয়ায় তিনি ৯০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন।

ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, বুধবার থেকে স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করার কথা জানিয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক জানান, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট কবে নাগাদ কাটবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট কাটাতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।