ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটেই লোডশেডিং বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 121

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস নির্ভরতা ও সরবরাহ ঘাটতিই লোডশেডিং বৃদ্ধির মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাত এখনও মূলত গ্যাসনির্ভর।

এই গ্যাসের একটি অংশ দেশে উৎপাদিত হলেও উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হয়। কিন্তু আমদানি সক্ষমতা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না—ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি লোডশেডিংয়ে পড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো, আর অতিরিক্ত প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। অর্থের জোগান থাকলেও কিছু কাঠামোগত সমস্যার কারণে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স অল্প সময়ের। তার ভাষায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক ধরনের অনিয়ম ও অস্থিতিশীলতা উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া গেছে, যেগুলো এখন সমাধানের পথে আনা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি হলেও তা মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। তার যুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবেশী অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এ বৃদ্ধি ‘নিয়ন্ত্রিত’ বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি হিসাব দিয়ে বলেন, ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে পণ্য পরিবহনে ট্রাকে খরচ সামান্য বাড়লেও কেজিপ্রতি পণ্যে তার প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে।

এদিকে আসন্ন ২ মে বাসিয়া খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘিরে প্রস্তুতি পরিদর্শনও করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। প্রকল্পটি সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গ্যাস সংকটেই লোডশেডিং বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস নির্ভরতা ও সরবরাহ ঘাটতিই লোডশেডিং বৃদ্ধির মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাত এখনও মূলত গ্যাসনির্ভর।

এই গ্যাসের একটি অংশ দেশে উৎপাদিত হলেও উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হয়। কিন্তু আমদানি সক্ষমতা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না—ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি লোডশেডিংয়ে পড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো, আর অতিরিক্ত প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। অর্থের জোগান থাকলেও কিছু কাঠামোগত সমস্যার কারণে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স অল্প সময়ের। তার ভাষায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক ধরনের অনিয়ম ও অস্থিতিশীলতা উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া গেছে, যেগুলো এখন সমাধানের পথে আনা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি হলেও তা মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। তার যুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবেশী অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এ বৃদ্ধি ‘নিয়ন্ত্রিত’ বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি হিসাব দিয়ে বলেন, ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে পণ্য পরিবহনে ট্রাকে খরচ সামান্য বাড়লেও কেজিপ্রতি পণ্যে তার প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে।

এদিকে আসন্ন ২ মে বাসিয়া খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘিরে প্রস্তুতি পরিদর্শনও করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। প্রকল্পটি সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।