ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 124

উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপন করা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, বিশেষ করে কৃষকদের সন্তানরা সেখানে কাজের সুযোগ পাবে।

সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং ঈদের পর তাদের সঙ্গে বৈঠক করে উত্তরাঞ্চলে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, কারণ ওই অঞ্চলে বহু বাংলাদেশি কর্মরত। তবু সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

কৃষকদের সহায়তায় আগামী মাস থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে বলেও জানান তিনি। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকেরা এই কার্ড পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে, তাই কৃষিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি জানান, সাহাপাড়া খালটি ১২ কিলোমিটার খনন শেষ হলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং এই খাল থেকে পানি নিয়ে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।

এতে সরাসরি সুবিধা পাবে সাড়ে তিন লাখ মানুষ। একই সঙ্গে এই এলাকার কৃষি উৎপাদন প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়তে পারে। খালের দুই পাশে সড়ক নির্মাণ ও প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা পানির সংকটে পড়েন।

এই পরিস্থিতি বদলাতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা সেচে ব্যবহার করা যাবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। সব খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব নয়। তাই পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনেই সরকার গঠিত হয়েছে এবং মানুষের অংশগ্রহণ থাকলে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে।

অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপন করা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, বিশেষ করে কৃষকদের সন্তানরা সেখানে কাজের সুযোগ পাবে।

সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং ঈদের পর তাদের সঙ্গে বৈঠক করে উত্তরাঞ্চলে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, কারণ ওই অঞ্চলে বহু বাংলাদেশি কর্মরত। তবু সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

কৃষকদের সহায়তায় আগামী মাস থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে বলেও জানান তিনি। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকেরা এই কার্ড পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে, তাই কৃষিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি জানান, সাহাপাড়া খালটি ১২ কিলোমিটার খনন শেষ হলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং এই খাল থেকে পানি নিয়ে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।

এতে সরাসরি সুবিধা পাবে সাড়ে তিন লাখ মানুষ। একই সঙ্গে এই এলাকার কৃষি উৎপাদন প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়তে পারে। খালের দুই পাশে সড়ক নির্মাণ ও প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা পানির সংকটে পড়েন।

এই পরিস্থিতি বদলাতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা সেচে ব্যবহার করা যাবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। সব খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব নয়। তাই পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনেই সরকার গঠিত হয়েছে এবং মানুষের অংশগ্রহণ থাকলে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে।

অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।