ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ জাল বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 336

‘অবৈধ জাল বন্ধ কর, মৎস্যসম্পদ রক্ষা কর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী।

বুধবার শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অবৈধ জাল বন্ধ কর, মৎস্যসম্পদ রক্ষা কর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রশাসনিক অভিযান একা এই সংকট সমাধানে যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নদ-নদী ও মুক্ত জলাশয়ের মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ‘প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি’র মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ রানা, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এবং সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন।

মূল প্রবন্ধে সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, দেশের মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তিনি কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি, বেহুন্দি ও মশারি জালের মতো বিধ্বংসী অবৈধ জালের নির্বিচার ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল এবং দৈনন্দিন প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে মাছ থেকে। অথচ অবৈধ জালের কারণে পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র, বিপন্ন হয়ে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। সরকারি অভিযান চললেও বাস্তবে এই জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ১০ দফা কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত অভিযান ও অভিযোগ জানানোর হটলাইন চালু, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও নজরদারি জোরদার, জাল উৎপাদক ও বিক্রেতাদের সচেতন করা, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে নদী ও মৎস্য রক্ষা কমিটি গঠন, সরকার ও নাগরিক সমাজের যৌথ ক্যাম্পেইন এবং ‘অবৈধ জাল বিরোধী সপ্তাহ’ পালন।

বক্তারা মনে করেন, প্রশাসন, গবেষক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দেশের অমূল্য মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অবৈধ জাল বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী।

বুধবার শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অবৈধ জাল বন্ধ কর, মৎস্যসম্পদ রক্ষা কর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রশাসনিক অভিযান একা এই সংকট সমাধানে যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নদ-নদী ও মুক্ত জলাশয়ের মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ‘প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি’র মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ রানা, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এবং সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন।

মূল প্রবন্ধে সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, দেশের মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তিনি কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি, বেহুন্দি ও মশারি জালের মতো বিধ্বংসী অবৈধ জালের নির্বিচার ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল এবং দৈনন্দিন প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে মাছ থেকে। অথচ অবৈধ জালের কারণে পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র, বিপন্ন হয়ে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। সরকারি অভিযান চললেও বাস্তবে এই জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ১০ দফা কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত অভিযান ও অভিযোগ জানানোর হটলাইন চালু, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও নজরদারি জোরদার, জাল উৎপাদক ও বিক্রেতাদের সচেতন করা, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে নদী ও মৎস্য রক্ষা কমিটি গঠন, সরকার ও নাগরিক সমাজের যৌথ ক্যাম্পেইন এবং ‘অবৈধ জাল বিরোধী সপ্তাহ’ পালন।

বক্তারা মনে করেন, প্রশাসন, গবেষক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দেশের অমূল্য মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে।